সংবাদদাতা, মালদহ: শুধু স্কুলের চার দেওয়ালের মধ্যেই নয়, সময় ও সুযোগ পেলে নিজের বাড়িতেও ছাত্রছাত্রীদের নতুন কিছু সৃষ্টির পাঠ দিচ্ছেন মালদহের শিক্ষক সৈকত চৌধুরী। ছাত্রছাত্রীদের শিল্পীসত্ত্বার বিকাশের পাশাপাশি মোবাইলের প্রতি ভয়ানক আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে তাঁর এই চেষ্টা দেখে মুগ্ধ অভিভাবকরা। তবে, তাঁর এই একক প্রচেষ্টা যাতে নিরন্তর চলতে থাকে, তা নিশ্চিত করতে সরকারি কিংবা বেসরকারি সাহায্যের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানিয়েছেন পুরাতন মালদহের ভাবুক রাম মার্ডি হাইস্কুলের সংস্কৃতের শিক্ষক সৈকত।
শৈশব থেকে বাড়ির পরিত্যক্ত জিনিসপত্র নিয়ে আকর্ষণীয় সামগ্রী তৈরি করে ফেলার প্রবণতা ছিল সৈকতের মধ্যে। পরে ছাত্রাবস্থায় নিজের শিক্ষক অভিজিত্ আচার্যের উৎসাহে আরও প্রস্ফুটিত হয় বালক সৈকতের আগ্রহ। ২০০৯ সালে শিক্ষকতার চাকরিতে যোগ দেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এই প্রাক্তনী। প্রথমে দক্ষিণ দিনাজপুর এবং পরে মালদহের একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে আসছেন তিনি। করোনাকালে বিদ্যালয় বন্ধ থাকার সময় নিজের শিল্পকর্মে বেশি মনোনিবেশ করেন তিনি। পরে তাঁর শিল্প ভাবনা পড়ুয়াদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। উৎসাহ দেন ভাবুক রাম মার্ডি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক দীপক বর্মণও। এরপর নিজের স্কুলের নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়াদের হাতের কাজ শেখানোর তালিম দিতে শুরু করেন সংস্কৃতের মাস্টারমশাই। এই শিল্প শেখানোর জন্য ছাত্রছাত্রীদের কাছে কখনও অর্থ চাননি সৈকত। পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল, নারকেলের খোল, গাছের শুকনো ডাল ইত্যাদি দিয়ে কীভাবে চোখ ধাঁধানো শিল্প সৃষ্টি করা সম্ভব, তা ছাত্রছাত্রীদের নিয়মিত শেখান এই শিক্ষক। কখনও স্কুলের দুটি ক্লাসের ফাঁকে, আবার নিজের বাড়িতেই বিনা পারিশ্রমিকে শেখাচ্ছেন পড়ুয়াদের। এক বছরের মধ্যে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত কলা উত্সবে জেলাস্তরে তিনটি পুরস্কার পেয়েছে তাঁর দুই ছাত্র ও এক ছাত্রী। পরের বছর আরও এক ধাপ এগিয়ে রাজ্যস্তরে সাফল্য পায় ছাত্র শ্রীনাথ টুডু। উৎসাহ বাড়ে গর্বিত শিক্ষকের।
সৈকতের কথায়, আমার ছাত্রছাত্রীদের অনেকের কাজ মুগ্ধ করবে সমঝদারদের। বিজয় হেমব্রমের হাতে তৈরি সামগ্রী চড়া দামে বিক্রিও হয়। ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সৃষ্টিশীলতা রয়েছে। শুধু ঘষামাজার কাজটা করি। আমার পড়ুয়ারা মোবাইল ছেড়ে মন দেয় নতুন কিছু গড়তে। এই চেষ্টা বৃহত্তর স্তরে হতে পারে সরকারি কিংবা বেসরকারি সাহায্য মিললে।
ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, সৈকতবাবুর এই শিল্পীসত্ত্বা এবং সংস্কৃত ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘটানোর উদ্যোগে পাশে রয়েছি।
• নিজস্ব চিত্র।