নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা মালদহ: তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারি সভাধিপতির বিরুদ্ধে পেশ হওয়া অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে উচ্চ আদালতের নির্দেশে সভা হবে আগামী ১৭ আগস্ট। মালদহ জেলা পরিষদ সূত্রে বিষয়টি জানা গিয়েছে। দলেরই সভাধিপতি এবং সহকারি সভাধিপতিকে পদ থেকে সরাতে আস্তিন গোটাচ্ছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী জেলা পরিষদ সদস্যরা। তাঁদের দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব পাশ করানোর মতো প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের রয়েছে। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সভাধিপতি এবং সহকারী সভাধিপতির ঘনিষ্ঠ সদস্যদের দাবি, অনাস্থা প্রস্তাব মুখ থুবড়ে পড়বে।
মালদহ জেলা পরিষদে মোট ৪৩জন নির্বাচিত সদস্য রয়েছেন। ২০২৩ সালে তৃণমূল ৩৪টি, কংগ্রেস ৫টি এবং বিজেপি ৪টি আসনে জয়ী হয়েছিল। সভাধিপতি হন তৃণমূলের লিপিকা বর্মন ঘোষ এবং সহকারি সভাধিপতি হন তৃণমূলের এটিএম রফিকুল হোসেন।
কিন্তু ৪ মে রাজ্যের ক্ষমতা থেকে তৃণমূল বিদায় নিতেই টলমল হয় লিপিকা এবং রফিকুলের গদি। তৃণমূলের টিকিটে নির্বাচিত একদল জেলা পরিষদ সদস্য ওই দু’জনের বিরুদ্ধে ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে অনাস্থা পেশ করেন। পরে জল গড়ায় উচ্চ আদালত পর্যন্ত। শেষ পর্যন্ত উচ্চ আদালতের নির্দেশে ১৭ আগস্ট অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক (জেলা পরিষদ) ভাস্কর মজুমদার। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচিত সদস্যদের চিঠি দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে বিদ্রোহী তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্যা প্রতিভা সিং বলেন, অনাস্থা পাশ হবেই। আমাদের সঙ্গে ২২জন তৃণমূল জেলা পরিষদ সদস্য রয়েছেন। আমরা একনায়কত্বের অবসান চাই। সভাধিপতি এবং প্রাক্তন জেলা সভাপতি ছড়ি ঘোরাতেন। কর্মাধ্যক্ষের পদও শুনছি মোটা টাকার বিনিময়ে বরাদ্দ হয়েছে। অনাস্থার পরে আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব।
সভাধিপতি লিপিকার প্রতিক্রিয়া না মিললেও সহকারি সভাধিপতি রফিকুল বলেন, যৌথভাবে কাজ করার জন্য মানুষ আমাদের রায় দিয়েছিল। আমাদের উচিৎ একসঙ্গে থেকে রাজ্য সরকারের সহায়তা নিয়ে মানুষকে পরিষেবা দেওয়া। কিন্তু কেউ কেউ ব্যক্তিস্বার্থে পদক্ষেপ করছেন। তবে যাই হোক, অনাস্থা প্রস্তাব পাশ হবে না।
এই টানাপোড়েনের মাঝে কংগ্রেস এবং বিজেপির মোট ৯ সদস্যদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।