সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: দুর্গাপুজোর বাদ্যি বেজে গিয়েছে। শহরজুড়ে শুরু হয়েছে মণ্ডপসজ্জা, রঙের কাজ ও সাজসজ্জার তোড়জোড়। আর সেই সঙ্গে তুঙ্গে পৌঁছেছে আলোক শিল্পীদের ব্যস্ততা। শুধু শহর নয়, শহরের বাইরে থেকেও বেশ কিছু অর্ডার আসায় দিনরাত একভাবে কাজ করতে হচ্ছে আলোক শিল্পীদের। নতুন নতুন নকশার ফ্রেম বানানো, পুরনো লাইট সারানো, তার গাঁথা, রঙিন বাতির পরীক্ষা, সব মিলিয়ে এখন যেন সময়ের সঙ্গে যুদ্ধে নেমেছেন কৃষ্ণনগরের আলোকশিল্পীরা।
এবার আলোকসজ্জায় প্রযুক্তির ছোঁয়া আরও বেশি। এলইডি আলো, মুভিং লাইট, চেন লাইট সব মিলিয়ে আলোক শিল্পীরা চেষ্টা করছেন যাতে প্যান্ডেল গুলোতে আলোর কাজ খুব সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়। বেশিরভাগ আলোক শিল্পীই এখন ছুটেছেন নির্দিষ্ট পান্ডেলে। পঞ্চমীর আগে তাঁদের কাজ যেভাবেই হোক শেষ করতে হবে। পুজোর আগে কৃষ্ণনগরের আলোক শিল্পীদের ব্যস্ততা শহরের উৎসবের আবহ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
বেশিরভাগ আলোক শিল্পীর বক্তব্য, আমাদের এখন দিনরাত এক করে কাজ করতে হচ্ছে। এক এক করে বিভিন্ন শহরে আলোর সরঞ্জাম যেতে শুরু করেছে। কর্মীরা সেখানে গিয়ে আলো সেট করার কাজ করছে। পুজো কমিটিগুলো এখন থিম-ভিত্তিক আলোর অর্ডার দেয় বেশি। সেগুলোর বেশিরভাগই ইতিমধ্যেই প্যান্ডেলে ইনস্টল করা শুরু হয়ে গিয়েছে।
কৃষ্ণনগরের এক আলোক শিল্পী চন্দন ঘোষ বলেন, এবার দুর্গাপুজোয় কৃষ্ণনগর শহরের পাশাপাশি বাদকুল্লা, নবদ্বীপ থেকে অর্ডার এসেছে। নতুন নতুন ডিজাইনের আলো তৈরি করছি। বর্তমানে সব পুজো প্যান্ডেলেই আধুনিক ডিজাইনের কাজ চাই। আমরা সেদিকেই নজর দিয়েছি। আধুনিক এলইডি লাইটের ব্যবহার বেশি হচ্ছে, কারণ গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনেকেই লাইট লাগাতে চায়।
আরও এক আলোক শিল্পী আকাশ দুর্লভ বলেন, এবার পুজোয় বেশ চাপ আছে, বড় বড় বেশ কিছু কাজ পেয়েছি। বর্তমানে এলইডি, চেন লাইট, ফানুস লাইটের চাহিদা বেশি। বেশিরভাগ কাঁচামাল কলকাতা থেকেই আনা হয়। খুব পরিশ্রম করে আমরা কাজগুলো ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করি। সেটা দেখে মানুষের ভালো লাগলেই খাটনি সফল হবে।
শহর থেকে শহরতলি, বিভিন্ন পুজোমণ্ডপে পৌঁছে যাচ্ছে কৃষ্ণনগরের আলোর সরঞ্জাম। শিল্পীদের রাতদিনের পরিশ্রমে পঞ্চমীর আগেই মণ্ডপে মণ্ডপে ফুটে উঠবে নতুন আলোর নকশা। কাজ করে চলেছেন আলোকশিল্পীরা। -নিজস্ব চিত্র