Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাঁকুড়ায় বন্যা দুর্গতদের পাশে মন্ত্রী

শনিবার বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিলি করতে বাঁকুড়ায় আসেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। এদিন মন্ত্রী দুপুরে তালডাংরা ব্লকের পাঁচমুড়া অঞ্চলে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি ও জেলা-পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকরা

বাঁকুড়ায় বন্যা দুর্গতদের পাশে মন্ত্রী
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: শনিবার বন্যা দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ সামগ্রী বিলি করতে বাঁকুড়ায় আসেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক। এদিন মন্ত্রী দুপুরে তালডাংরা ব্লকের পাঁচমুড়া অঞ্চলে যান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাঁকুড়ার সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী, জেলা পরিষদের সভাধিপতি অনুসূয়া রায়, খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জ্যোৎস্না মাণ্ডি ও জেলা-পুলিস প্রশাসনের আধিকারিকরা। তাঁরা পাঁচমুড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ত্রাণ শিবিরে গিয়ে বিভিন্ন সামগ্রী দুর্গতদের মধ্যে বিলি করেন। পরে তাঁরা সিমলাপালে যান। সেখানে শিলাবতী নদীর উপর বাঁকুড়া-ঝাড়গ্রাম রাজ্য সড়কে থাকা সেতুর অবস্থা খতিয়ে দেখেন। সেই সময়ই ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান দুর্গতরা। মলয়বাবু বলেন, বাম আমলে রাজ্যে বন্যা হলে দুর্গতদের অসহায়তা লক্ষ্য করা যেত। এখন বন্যা হওয়া মাত্র মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দেন। প্রশাসন দ্রুত ত্রাণ সামগ্রী বিলির ব্যবস্থা করে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি দ্রুত মেরামত করে দুর্গতদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

Advertisement

মলয়বাবু সহ অন্যান্যরা জঙ্গলমহলে থাকার সময় ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে দুর্গতরা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এদিন পাঁচমুড়া অঞ্চলের রাধানগর গ্রামের মোড়ে বাসিন্দারা তৃণমূলের ঝান্ডা নিয়ে অবরোধে নামেন। তারফলে তালডাংরা-পাঁচমুড়া রোডে যান চলাচল দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকে। অবরোধের জেরে বাস সহ অন্যান্য যানবাহন আটকে পড়ে। রোদে-গরমে বাসযাত্রী ও বাইক আরোহীরা নাকাল হন। খবর পেয়ে তালডাংরা ব্লক প্রশাসন, পঞ্চায়েত সমিতি ও থানার পুলিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। প্রশাসনের তরফে ত্রাণ ও খাবারের ব্যবস্থা করা হলে অবরোধ উঠে যায়। 
তালডাংরা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি গণেশচন্দ্র রায় বলেন, দলের নেতাদের একাংশের জনসংযোগের অভাবের কারণে দুর্গতদের কাছে ত্রাণ পৌঁছতে দেরি হয়েছিল। সেই কারণে অবরোধ হয়। তবে আমরা দ্রুত আলোচনা করে সমস্যার সমাধান করি। আগামী দিনে যাতে দুর্গতরা সবকিছু নিয়ম অনুযায়ী পান, তা দেখা হবে। 
তৃণমূলের রাধানগর বুথ সভাপতি তথা আন্দোলনকারী প্রশান্ত নায়েক বলেন, জনপ্রতিনিধি ও আধিকারিকরা আমাদের এলাকার উপর দিয়েই পাঁচমুড়া হাই স্কুলের ত্রাণ শিবিরে গিয়েছিলেন। অথচ বানভাসিরা এলাকায় কীভাবে রয়েছে, তা দেখতে যাননি। গ্রামের বেশিরভাগ বাড়িতে এক কোমর করে জল দাঁড়িয়ে রয়েছে। বন্যার পর আমাদের গ্রামের দু’টি বুথের প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দাকে রান্না করা খাবার দেওয়া হচ্ছিল। 
শুক্রবার রাত থেকে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাড়িতেও রান্নার পরিস্থিতি নেই। এই পরিস্থিতিতে অভুক্ত বাসিন্দারা এদিন বাধ্য হয়ে রাস্তা অবরোধ করেন। তিনি আরও বলেন, তালডাংরায় বর্তমানে হেভিওয়েট জনপ্রতিনিধি, দলের নেতারা রয়েছেন। তা সত্ত্বেও এলাকার বাসিন্দারা খাবারের জন্য হাহাকার করছেন। এর থেকে খারাপ আর কিছু হয় না। মুখ্যমন্ত্রীর প্রচেষ্টাকে তালডাংরার নেতানেত্রীরা বানচাল করে দিচ্ছেন। এরফলে এলাকায় দলের সাংগঠনিক অবস্থা খারাপ হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ