নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০২৭। কিন্তু তা পূরণ হচ্ছে না। তাই এবার নতুন টার্গেট নিল মোদি সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে ম্যালেরিয়া। সেই লক্ষ্যপূরণে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জে পি নাড্ডা। একইসঙ্গে রাজ্যগুলির সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকও করেছেন। সব রাজ্যকে কেন্দ্রের পরামর্শ, ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গু—দু’ক্ষেত্রেই রোগ আটকাতে উদ্যোগ বাড়াতে হবে। সক্রিয় করতে হবে পুরসভা, পঞ্চায়েতকে। জোরদার করতে হবে সোশ্যাল মিডিয়ায় সচেতনতার প্রচার। বর্ষার পর সাধারণত বাড়তে থাকা ম্যালেরিয়া কীভাবে রোখা হবে, তা নিয়ে রাজ্যগুলির পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে কেন্দ্র। আগামী ২০ দিনের মধ্যে একটি স্ট্র্যাটেজি রিপোর্ট স্বাস্থ্যমন্ত্রককে পাঠাতে বলা হয়েছে।
চলতি বছরে গোটা দেশে গত জুন মাস পর্যন্ত ৯৭ হাজার ৯৯৫ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে মারা গিয়েছেন পাঁচজন (ঝাড়খণ্ড ও অসমের দু’জন করে এবং ঝাড়খণ্ডের একজন)। পশ্চিমবঙ্গে ম্যালেরিয়ার শিকার ৩ হাজার ৭২২। কোনও মৃত্যু নেই। সেই হিসেবে গত বছরের চেয়ে গোটা দেশে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত এবং মৃত্যুর সংখ্যা অনেক কমেছে। মন্ত্রকের রিপোর্ট মোতাবেক, ২০২৪ সালে ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২ লক্ষ ৫৫ হাজার ৫০০। মৃত্যু ৮৬। ২০২২-২৪ সালের মধ্যে দেশের ১৬০টি জেলায় একজনও ম্যালেরিয়া রোগীর সন্ধান মেলেনি। সেই রিপোর্টই প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
একইভাবে ডেঙ্গু আক্রান্তর সংখ্যাও কমাতে চাইছে কেন্দ্র। চলতি বছরে গোটা দেশে ১২ হাজার ৪৩ জন আক্রান্ত। মৃত্যুর ছ’জনের। ইতিবাচক এই রিপোর্ট দেখে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডা বলেছেন, ‘দেশ থেকে ডেঙ্গু প্রায় শেষই হতে চলেছে। তবে আত্মতুষ্ট হয়ে থেমে গেলে চলবে না। নজরদারি বজায় রাখতে হবে। সব রাজ্য উদ্যোগী হলেই ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়ার মতো রোগ নির্মূলকরণ সম্ভব।’ আপাতত মন্ত্রকের পরবর্তী লক্ষ্য একটাই, ম্যালেরিয়াহীন ভারত।