নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে নাকি ‘সুপারস্পেশালিস্ট’ ডাক্তারের সংকট? কিন্তু স্বাস্থ্যদপ্তরের আচরণ তার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। ডাক্তারির সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করা তরুণ চিকিৎসকদের পোস্টিং পাঁচমাস ফেলে রাখার অভিযোগ উঠল। ফল প্রকাশিত হয়েছে গত মার্চে। অভিযোগ, ৮১ জন তরুণ সুপারস্পেশালিস্ট ডাক্তারের পোস্টিং স্বাস্থ্যদপ্তর ফেলে রেখেছিল নতুন সরকার গঠনের পরও। স্বাস্থ্যদপ্তরে বারবার দরবার করেও সুরাহা মিলছিল না। তাই ১২ আগস্ট স্বাস্থ্যভবনে গিয়ে শীর্ষকর্তাদের কাছে নিজেদের ক্ষোভ ও হতাশার কথা জানান তাঁরা। অবশেষে পরদিন কাউন্সেলিং করার নির্দেশনামা জারির সিদ্ধান্ত জানানো হয়। কিন্তু মাঝে নষ্ট হয়েছে পাঁচমাস! এক তরুণ সুপারস্পেশালিস্ট ডাক্তার বলছিলেন, আশা করব পরবর্তী ব্যাচগুলি এই অনাবশ্যক ভোগান্তির শিকার হবে না।
স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, এম ডি, এম এস করার পরও বিভিন্ন বিভাগে তিন বছরের সুপারস্পেশালিস্ট ডি এম, এম সি এইচ ডিগ্রি সম্পূর্ণ করেছেন এইসব মেধাবী চিকিৎসকরা। তাঁরা পরীক্ষা দেন জানুযায়ীতে। ফল বেরিয়েছে গত মার্চে। গ্যাস্ট্রোর এমনই এক তরুণ চিকিৎসক বললেন, সময় নষ্ট হলেও একটি ভালো বিষয় হল—স্বচ্ছতা মেনে অনলাইনে কাউন্সেলিং শুরু হয়েছে। পরীক্ষার পর সাতমাস বা ফল প্রকাশের পর বন্ড পোস্টিংয়ের অপেক্ষায় পাঁচমাস বসে থাকা এই তালিকায় রয়েছেন ১৫ জন কার্ডিয়োলজিস্ট, ১৩ জন নিউরোলজিস্ট, ১০ জন নেফ্রোলজিস্ট, দুজন কার্ডিয়োথোরাসিক সার্জন, তিনজন এন্ডোক্রিনোলজিস্ট, আটজন প্লাস্টিক সার্জন এবং আটজন ইউরোলজিস্ট প্রভৃতি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, প্রত্যেকেরই তিনবছরের বন্ড পোস্টিংয়ে সরকারি চুক্তিভিত্তিক চাকরি করার কথা। তাঁদের বসিয়ে রাখার অর্থ, তাঁদের পরিষেবা থেকে রাজ্যের মানুষকেই বঞ্চিত করা। স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা বলেন, এইসময়ের মধ্যে ভোটের আদর্শ আচরণবিধির তিনমাসও ছিল। খুব দেরি হয়নি। তাছাড়া অনেক ফর্মালিটিও থাকে।