গর্ভাবস্থা এমনকী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হন। পরামর্শে এইচসিজি ক্যান্সার সেন্টার (কলকাতা) মেডিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ দেবান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।
গর্ভাবস্থা এমনকী সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়েও বেশ কিছু উপসর্গ দেখা দিলে অবশ্যই সতর্ক হন। পরামর্শে এইচসিজি ক্যান্সার সেন্টার (কলকাতা) মেডিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ দেবান্তি বন্দ্যোপাধ্যায়।
সুপ্রিয় নায়েক: চলে গেল ওয়ার্ল্ড ব্রেস্টফিডিং উইক। বিশেষ সপ্তাহটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় মা ও শিশুর জন্য ব্রেস্টফিডিং-এর অসাধারণ উপকারিতার কথা। তবে এই সময়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তাও মনে রাখা জরুরি- ব্রেস্টফিড করানোর সময় ব্রেস্ট-এ কোনো গাঁট দেখা দিলে সেটিকে কখনও শুধুমাত্র দুধ জমে যাওয়ার সমস্যা বলে উড়িয়ে দেবেন না।
সন্তানকে ব্রেস্টফিড করানোর সময় ব্রেস্ট ফুলে যাওয়া, ব্রেস্ট-এ ব্যথা বা নিরীহ গাঁট হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু গর্ভাবস্থায়ও, সন্তানকে ব্রেস্ট ফিড করানোর সময়েও ব্রেস্ট ক্যান্সার ধরা পড়তে পারে। তাই ব্রেস্ট-এ নতুন কোনো গাঁট, দীর্ঘদিন ধরে থাকা গাঁট, ব্রেস্ট-এর আকৃতি বা ত্বকে পরিবর্তন, হঠাৎ নিপল ভেতরের দিকে ঢুকে যাওয়া, অথবা একদিকের নিপল থেকে রক্তমিশ্রিত রস বেরনো, নিজে থেকেই দুধ ছাড়া অন্য ধরনের স্রাব বেরনো- এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। একইভাবে, ব্রেস্ট-এ লালচে ভাব, ব্যথা বা ফোলাভাব যদি চিকিৎসা সত্ত্বেও না কমে, তাহলেও তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
এই ধরনের অধিকাংশ সমস্যাই ক্যান্সার নয়। কিন্তু এগুলোকে স্বাভাবিক ভেবে অবহেলা করলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে। একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বা ব্রেস্ট স্পেশালিস্ট প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারেন। গর্ভাবস্থার যেকোনো পর্যায়ে এবং ব্রেস্টফিড করানোর সময়েও ব্রেস্ট-এর আলট্রাসোনোগ্রাফি নিরাপদে করা যায়।
তবে এই সতর্কবার্তা স্তন্যপানের গুরুত্বকে কোনোভাবেই খাটো করে না। গবেষণায় দেখা গেছে, স্তন্যপান ভবিষ্যতে মায়েদের ব্রেস্ট ক্যান্সার ও ওভারিয়ান ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় প্রকাশিত একটি বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে যদি প্রায় সব শিশুই মায়ের দুধ পায়, তাহলে প্রতিবছর অতিরিক্ত প্রায় ২০ হাজার ব্রেস্ট ক্যান্সারজনিত মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব।
এই বিশ্ব স্তন্যপান সপ্তাহে আমাদের বার্তা হওয়া উচিত— শিশুকে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়ান, তবে নিজের ব্রেস্ট-এ কোনও পরিবর্তন হলে সেই বিষয়েও সচেতন থাকুন এবং কোনো স্থায়ী বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন কখনও অবহেলা করবেন না।