Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কালনায় প্রতিমার মুকুট, চাঁদমালা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে

পুজোর আর কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা। স্বাভাবিকভাবেই কালনা শহরে প্রতিমার অঙ্গসাজের মুকুট, চাঁদমালা ও অলংকার তৈরির ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে।

কালনায় প্রতিমার মুকুট, চাঁদমালা তৈরির ব্যস্ততা তুঙ্গে
  • ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কালনা: পুজোর আর কয়েক সপ্তাহের অপেক্ষা। স্বাভাবিকভাবেই কালনা শহরে প্রতিমার অঙ্গসাজের মুকুট, চাঁদমালা ও অলংকার তৈরির ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। রাতদিন চলছে কাজ। ইতিমধ্যে দশকর্মা ভাণ্ডারগুলি পাইকারি দ্রব্য নেওয়া শুরু করে দিয়েছে। এবার পুজোয় বিক্রিবাটা ভালো হবে বলেই জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

কালনা শহর ও শহরতলিতে বেশ কয়েকটি প্রতিমার অঙ্গসাজ, মালা, চাঁদমালা তৈরির ছোট, বড় কারখানা রয়েছে। এই শিল্পে পুরুষ কর্মী থাকলেও  মহিলা কর্মীর সংখ্যাই বেশি। কালনা শহর ও শহরতলিতে এই শিল্পে যুক্ত মহিলার সংখ্যা কয়েক’শো। এখানে পুরুষরা কাঁচামাল আদান প্রদান ও কারখানায় বসে ভারী ডিজাইনের নানা কাজ করেন। এই শিল্পের অধিকাংশ কাঁচামাল জড়ি, প্লাস্টিক পেপার, ফোম, থার্মোকল, রঙিন শিট পেপার, রেশমের সুতো ও চুমকি । কাঁচামালের অধিকাংশই আসে কলকাতা থেকে। আগে প্লাস্টিক শিট পেপারের মালার চাহিদা থাকলেও এবার রঙিন রেশমি সুতোর জরির মালায় সবচেয়ে বেশি চাহিদা। চাঁদমালার ডিজাইনেও এসেছে হরেক বৈচিত্র। আগে সোলা ও চুমকি দেওয়া চাঁদমালার চাহিদা বেশি ছিল। এবার রঙবেরঙের জড়ি, চুমকি ও ফার্মোকলের পাশাপাশি রঙিন প্রিন্টের দেবী মুখ দেওয়া চাঁদমালারও চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ইতিমধ্যে কাঁচামাল কিনে কারখানার মালিকরা  শিল্পীদের বাড়ি, বাড়ি তা পৌছে দিয়েছেন। শিল্পীরাও রাতদিন এক করে কাজ করে চলেছেন। এবার কালনার কয়েকটি কারখানা থেকে দেব, দেবীর অঙ্গসাজ ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছে। 
কালনা শহরের বারুইপাড়ার এমনই একটি  কারখানার মালিক সুজিত পাল বলেন, এক সময় এই শিল্পে ভাটা পড়েছিল। চাহিদা কমছিল। ঠিক মতো কাঁচামাল মিলত না। তবে এই সরকার দুর্গাপুজোয় সরকারি অনুদান দেওয়ায় পুজোগুলির জৌলুস বেড়েছে। দুর্গাপুজোর সংখ্যাও বেড়েছে। এই শিল্পে গতি এসেছে। এই শিল্পে মহিলারা কারখানায় বা ঘরে বসে কাজের ফাঁকে মাসে চার-পাঁচ হাজার টাকা অনায়াসে রোজগার করতে পারেন। সরকারি সাহায্য পেলে এই শিল্পে আরও মানুষের কর্মসংস্থান সম্ভব।শিল্পী  মঞ্জু পাল, মামনি পাল, মৌসুমি পালরা  বলেন,  সংসারের কাজ করে মালা ও চাঁদমালা তৈরি করি। কাজের পরিচ্ছন্নতা থাকায় ঘরে বসে কাজ করতে অসুবিধা হয় না। বছরের অন্য মাসগুলিতে কাজের গতি তেমন না থাকলেও পুজোর আগে দেড়-দুই মাস এসবের চাহিদা বাড়ে। আমরাও একটু বেশি পরিশ্রম করি বাড়তি কিছু রোজগারের আশায়।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ