Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

আসানসোল পুরসভায় বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারি, তোলপাড়

আসানসোল পুরসভায় বড়সর আর্থিক কেলেঙ্কারির হদিশ মিলেছে। যাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অভ্যন্তরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

আসানসোল পুরসভায় বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারি, তোলপাড়
  • ১২ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোল পুরসভায় বড়সর আর্থিক কেলেঙ্কারির হদিশ মিলেছে। যাকে কেন্দ্র করে পুরসভার অভ্যন্তরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, আসানসোল পুরসভার মেয়রকে অন্ধকারে রেখে আসানসোল উত্তর থানা এলাকার একটি মাল্টিপ্লেক্সের ২১ লক্ষ টাকা কর মুকুব করে দেওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, সম্পত্তি কর জমা করার পুরনো নথি ঘেঁটে দেখা গিয়েছে, এমন মানি রিসিটের মাধ্যমে কর জমার হিসেব দেখানো হয়েছে, যেসব মানি রিসিটের বাস্তবে কোনও অস্তিত্বই নেই। অভিযোগ, ট্যাক্স ডিপার্টমেন্টের কিছু অসাধু কর্মী ও আধিকারিকের দুর্নীতির জেরে ‘ভাঁড়ে মা ভবানী’ দশা রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ এই পুর নিগমের। 

Advertisement

আসানসোল পুরসভার মেয়র বিধান উপাধ্যায় বলেন, আমাকে না জানিয়ে ২১ লক্ষ টাকা কর মুকুবের বিষয়টি নজরে এসেছে। আমি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি রানিগঞ্জেও কর জমা করা নিয়ে বেনিয়ম সামনে এসেছে। তারও তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, রানিগঞ্জে যে বেনিয়মটি ধরা পড়েছে তা ২০২৪ সালের। একটি নির্দিষ্ট হোল্ডিং নম্বরের কর বাবদ চার বার ২ লক্ষ ৬১ হাজার ৯০৪ টাকা করে জমা পড়েছে। একবার জমা পড়েছে ৬৫ হাজার ৪৭৬ টাকা। রানিগঞ্জ বরো অফিসের কম্পিউটারে এই টাকা জমা পড়ার হিসেব রয়েছে। সেখানে যে রসিদের মাধ্যমে এই টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়, তা খতিয়ে দেখা হয়। তা দেখে বর্তমান আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ! যে নম্বরের মানি রিসিটের উল্লেখ রয়েছে কম্পিউটারে, বাস্তবে সেই নম্বরের মানি রিসিটের কোনও অস্তিত্ব নেই। পুরসভার সন্দেহ, ওই হোল্ডিং নম্বরের ট্যাক্স হিসেবে জমা হওয়া ১১ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা পুরসভার তহবিলে জমাই পড়েনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। 
কীভাবে হচ্ছে আর্থিক প্রতারণা? পুরসভার এক কর্মী জানিয়েছেন, বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেরই বেশ কয়েক বছরের কর বাকি রয়েছে। পুরসভার নিয়ম মেনে বিপুল টাকা দিতে হবে তাদের। তারপরেই নতুন ট্যাক্স হবে। অনেকেই পুরনো বকেয়া ট্যাক্স মেটাতে গিয়ে অসাধু উপায় অবলম্বন করছে। কর্মীদের সঙ্গে সেটিং করে বকেয়া ট্যাক্স ভুয়ো মানি রিসিটের মাধ্যমে জমা হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে পুরসভার কম্পিউটারে। তারপরই নতুন ট্যাক্স জমা করে নিজের প্রতিষ্ঠানের ট্যাক্স ‘আপ টু ডেট’ করিয়ে নিচ্ছে এই অসাধু কারবারিরা। 
দ্বিতীয় অভিযোগটি কিন্তু আরও ভয়ংকর। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আসানসোল উত্তর থানা এলাকার মাল্টিপ্লেক্সের যে পরিমাণ কর বকেয়া ছিল, তার অর্ধেক টাকা পুরসভায় জমা করা হয়। তাতেই মাল্টিপ্লেক্সটির ট্যাক্স ‘আপ টু ডেট’ করে দেওয়া হয়। এখানে উল্লেখ করা হয়, ২১ লক্ষ টাকা কর মুকুব করেছে পুরসভা। বিপুল পরিমাণ কর মুকুবের বিষয়টি মেয়রের নজরে আনা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। এনিয়ে শুরু হয়েছে জলঘোলা। পুর কর্মীদের একাংশের মতে, পুরসভা তৃণমূলের অধীনে থাকলেও তার চাবিকাঠি এখনও থেকে গিয়েছে, প্রাক্তন বাম নেতাকর্মীদের হাতেই। জামা বদল করে কেউ তৃণমূলের নেতা হয়েছেন, কেউ তৃণমূলের পদাধিকারীর ঘনিষ্ঠ হয়েছেন। মধুভাণ্ডের নিয়ন্ত্রক তাঁরাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ