নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: জলাধারগুলিতে ড্রেজিংয়ের কোনও ব্যবস্থা করছে না কেন্দ্রীয় সরকার। তার খেসারত দিতে হচ্ছে এরাজ্যের বাসিন্দাদের। ঝাড়খণ্ডে ভারী বৃষ্টি হলেই ব্যাপক পরিমাণে জল ছাড়ছে ডিভিসি। মাইথন, পাঞ্চেত, তেনুঘাট জলাধারে জল উপচে পড়ছে। সেই কারণে মাইথন এবং পাঞ্চেত থেকে আরও ৪৫হাজার কিউসেক জল ছাড়া হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, নদীতে জল বাড়লেও এখনই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
চাষিরা বলছেন, কয়েক দিন ধরেই জেলায় টানা বৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে জল জমে রয়েছে। নদীতেও অনেক বেশি জল রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ডিভিসি আরও জল ছাড়লে তা পাড় উপচে জমিতে ঢুকবে। বিভিন্ন খালগুলিতেও জল বেড়েছে। সেই জলও জমিতে ঢুকছে। খণ্ডঘোষের চাষি ইউনুস শেখ বলেন, জমিতে জল জমে থাকার জন্য চাষ করা যাচ্ছে না। নদীতে জল বাড়লে খালগুলিও উপচে পড়বে। যখন দরকার হয় তখন ডিভিসি জল ছাড়ে না। গ্রীষ্মে জলের অভাবে ধান চাষ করতে বেগ পেতে হয়। তখন অতিরিক্ত টাকা খরচ করে সাবমার্সিবল চালাতে হয়। আবার বর্ষার সময় লাগাতার জল ছাড়া হয়। জমি জলের তলায় থাকায় সময়ে চাষ করা যায় না।
আর এক চাষি শম্ভু বৈরাগ্য বলেন, এমনিতেই এবছর বৃষ্টির জন্য ধান চাষ পিছিয়ে গিয়েছে। অনেক বীজতলা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তারপর ডিভিসি লাগাতার জল ছাড়লে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়ে যাবে। জলাধারগুলি ভালোভাবে ড্রেজিং করা দরকার। সেটা হলে চাষিদের এভাবে সমস্যায় পড়তে হবে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছর দামোদরে জল বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বাঁধ উপচে জল বহু গ্রামে ঢোকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এবার যাতে ওই এলাকার বাসিন্দাদের বিপাকে পড়তে না হয়, তারজন্য আগেই জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। জল বাড়লে ওই এলাকার বাসিন্দাদের কোথায় রাখা হবে, তা ঠিক করা হয়েছে। চাষিরা বলেন, ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ না কমালে কিছুদিনের মধ্যেই বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হবে। আষাঢ় মাস শেষ হয়ে গেলেও জেলার অধিকাংশ জমি এখনও ফাঁকা পড়ে রয়েছে। তারপর বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হলে চাষিরা আরও বিপাকে পড়বেন।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মেহেবুব মণ্ডল বলেন, জলাধারগুলি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের চিন্তা ভাবনা করা উচিত। বহু বছর আগে ওই জলাধারগুলি তৈরি করা হয়েছিল। তারপর আর সেভাবে সংস্কার করা হয়নি। মাঝেমধ্যে নাম কা ওয়াস্তে পলি তোলা হয়। তাতে লাভ হয় না। ভালোভাবে ড্রেজিং না করলে বছরের পর বছর এই সমস্যা থেকে যাবে।- নিজস্ব চিত্র