নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তছরুপের ঘটনায় চক্রের অন্যতম কিংপিনকে গ্রেপ্তার করেছে লালবাজার। ভক্ত মণ্ডল নামে ওই অভিযুক্তকে গুজরাত থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় দু’বছর ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের ওই কর্মী গা ঢাকা দিয়েছিলেন। বেশ কয়েক মাস তিনি নেপালে ছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানতে পারেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক বলেন, তাকে অনেক আগেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও আপত্তি রয়েছে কি না, তা কয়েক দিন আগে তদন্তকারীরা জানতে চেয়েছিলেন। তিনি বিশ্বদ্যিালয়ের সঙ্গে আর যুক্ত নেই বলে তাদের জানিয়ে দেওয়া হয়। সুতরাং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে কর্তৃপক্ষর আপত্তি থাকবে না।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, দু’বছর আগে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা উধাও হয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কর্তৃপক্ষ বর্ধমান থানায় লিখিত অভিযোগ করে। পরে সিআইডি ঘটনার তদন্ত শুরু করে। তারা রহস্য উন্মোচন করার জন্য এক প্রাক্তন ভিসিকে জেরা করে। এছাড়া কয়েকজন আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সিআইডি তদন্তে নেমে জানতে পারে, বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা একাধিক ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। দিল্লি, নদীয়া, কলকাতা সহ বিভিন্ন জায়গার ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। তাদের অনেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া চক্রের মাথাদের কাছেও সিআইডি পৌঁছতে পারছিল না। তাদের কাজে আদালত অসন্তষ্ট হয়। আদালত লালবাজারের এক অ্যাসিস্ট্যান্ট পদমর্যাদার আধিকারিকের কাঁধে তদন্ত ভার তুলে দেয়। সিআইডিকে সহযোগিতা করার জন্য বলা হয়। ওই আধিকারিক সিট গঠন করে তদন্তে নামে। অবশেষে অন্যতম কিংপিন গ্রেপ্তার হয়। সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মী। তিনি বলেন, ওই দিন ভক্তই বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিটের নথি দিয়ে আমাকে ব্যাঙ্কে পাঠিয়েছিল। সেসব একটি খামের মধ্যে ছিল। কী নথি তাতে রয়েছে, তা জানতাম না। তারপরও আমাকে জেল খাটতে হয়েছিল। যারা এতবড় অপরাধ করেছে, তারা এতদিন অধরা থেকেছে। এবার আশার আলো দেখা গিয়েছে। একজন ধরা পড়েছে। এবার আশা করা যায়, বাকিরাও গ্রেপ্তার হবে।
গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, টাকা তছরুপের বিষয়টি নিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের আধিকারিকদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে গেলেও তাঁরা কেন সন্দেহ করেনি, সেটা জানতে চাওয়া হয়। যদিও ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের জন্যই পুরো চক্রের পর্দা ফাঁস হয়। প্রথমবার বিষয়টি বুঝতে না পারলেও দ্বিতীয়বার টাকা হস্তান্তরের নথি জমা পড়ার সময় সন্দেহ হয়। তখনই তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানায়। তারপরই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফিরেছিল।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত করে। তারাও কয়েকজনকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত করে। এক প্রাক্তন আধিকারিকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অবসরকালীন তাঁরা সমস্ত সুযোগ সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে এই চক্রের বাকি অভিযুক্তরা কবে শ্রীঘরে যাবে? এখন সেই প্রশ্নই বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে। সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের টাকা অ্যাকাউন্ট থেকে উধাও করে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তুলেছেন পড়ুয়ারাও।