নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: তৃণমূল নেতা পীযূষ ঘোষ খুনে প্রকাশ্যে এল নয়া তথ্য। গভীর রাতে পীযূষের অপেক্ষায় ঘটনাস্থল থেকে প্রায় তিন মিটার দূরে একটি দোকানের পিছনে লুকিয়েছিল মূল অভিযুক্ত রাহুল ঘোষ। মধ্যরাতে পীযূষকে হাতের নাগালে পেতেই সে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি চালায়। শুক্রবার তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় পুনর্নির্মাণ পর্বে এমনই জানতে পেরেছে পুলিস। যদিও খুনে ব্যবহৃত আগ্নেয়াস্ত্র এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়নি। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে তদন্তকারীরা রাহুলকে জেরা করছে। সারদামণিকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, এদিন ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। তদন্ত চলছে। দ্রুত আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হবে৷
তৃণমূল নেতাকে খুনের ঘটনায় মঙ্গলবার বিকেলে রাহুল ঘোষ ও সারদামণি মজুমদারকে গ্রেপ্তার করে সাঁইথিয়া থানার পুলিস। পরদিন বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পেশ করে পাঁচদিনের হেফাজতে নিয়ে পুলিস জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। এদিন দুপুর নাগাদ ওই ঘটনার পুনর্নির্মাণ করা হয়। কীভাবে খুন করা হয়েছিল তা পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে চাক্ষুষ করেন তদন্তকারীরা। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার রাতে নিহত তৃণমূল নেতা বাড়ি থেকে ৫০০ মিটার দূরে তিনমাথার মোড়ে একটি বাড়িতে গিয়েছিলেন। রাত প্রায় সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি সেখানে পৌঁছেছিলেন। বাড়ির উল্টোদিকে রাস্তার ধারে বাইক দাঁড় করিয়ে রাখা ছিল। ঠিক সেইসময় ধৃত রাহুল ওই এলাকায় পৌঁছেছিল। পীযুষের অপেক্ষায় ওই বাড়ির সামনেই থাকা চায়ের দোকানের পিছনে সে গা ঢাকা দিয়েছিল। প্রায় মধ্যরাতে পীযুষ ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে বাইকের দিকে রওনা হতেই রাহুল দোকানের পিছন থেকে বেরিয়ে গুলি চালায়। পর মূহূর্তেই নিজের বাইক চেপে সে চম্পট দিয়েছিল।
প্রসঙ্গত, গত ১২জুলাই গভীর রাতে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতিকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুনের অভিযোগ ওঠে। তিনি সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে তিনমাথার মোড় থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যে ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব প্রকাশ্যে এসেছে। সেই তত্ত্বে ভর করেই ধৃতদের জেরা করে তদন্তের জাল গোটাতে শুরু করেছে পুলিস। কিন্তু ঘটনার রাতে ওই এলাকায় তৃণমূল নেতার উপস্থিতির খবর রাহুল কীভাবে পেল? ভাবাচ্ছে তদন্তকারীদের।