নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রর সঙ্গে ভোট কুশলী প্রশান্ত কিশোরের ভুয়ো চ্যাট প্রকাশ করেছিলেন সুরজিৎ দাশগুপ্ত নামে এক ব্যক্তি। গেরুয়া ব্রিগেডের সঙ্গে যুক্ত সেই সুরজিতকে গ্রেপ্তার করা নিয়ে কৃষ্ণনগর পুলিশের সঙ্গে নয়ডা পুলিশের বাগযুদ্ধ চরমে পৌঁছল। সোমবার সুরজিতকে ধরতে নয়ডা গিয়েছিল কৃষ্ণনগর পুলিশের একটি টিম। রাজ্য পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তারির ঠিক আগেই সেখানে হাজির হয় নয়ডা পুলিশ। এরপর কৃষ্ণনগর পুলিশ টিমকে স্থানীয় থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আর সেই সুযোগে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সুরজিৎ। তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে কৃষ্ণনগর পুলিশের এই বয়ান উড়িয়ে দিয়েছে নয়ডা পুলিশ। তাদের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ গ্রেপ্তারির যথাযথ নিয়ম মানেনি। তাই তাঁরা ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মহুয়ার সঙ্গে প্রশান্তর একটি চ্যাট ভাইরাল হয়ে যায়। তাঁর নামে ভুয়ো এবং বিকৃত তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে কৃষ্ণনগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন স্থানীয় সাংসদ মহুয়া। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত শুরু করে কৃষ্ণনগর পুলিশ। তদন্তে পুলিশ জানতে পারে নয়ডার বাসিন্দা সুরজিৎ দাশগুপ্ত নামে এক ব্যক্তির এক্স হ্যান্ডল থেকে এই ভুয়ো চ্যাট ভাইরাল করা হয়েছে। ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করে জানা যায়, এই চ্যাট ভুয়ো। এরপরই সুরজিৎকে সোমবার স্থানীয় আদালতে হাজিরার নোটিস দেয় কৃষ্ণনগর পুলিশ। তবে গরহাজির থাকায় সুরজিতের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত। এ প্রসঙ্গে কৃষ্ণনগরের এসপি কে অমরনাথ বলেন, গ্রেপ্তার করতে সোমবার সকালে নয়ডায় সুরজিতের বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। অ্যারেস্ট মেমো তৈরির সময় সেখানে নয়ডা পুলিশ হাজির হয়। এরপর বাংলার পুলিশ টিমকে থানায় নিয়ে যায় তারা। অভিযুক্তকে আটকে রাখার কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। কী কারণে তাঁদের থানায় আনা হল, তাই নিয়ে দুই পুলিশের মধ্যে বচসা শুরু হয়। এরপর দুই রাজ্য পুলিশের শীর্ষমহলের মধ্যস্থতায় বাংলার পুলিশকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে নয়ডার বাড়িতে অভিযুক্ত সুরজিতের আর দেখা মেলেনি।
নয়ডা পুলিশ দাবি করেছে, আগাম যোগাযোগ না করেই পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ ফেজ-২-র ওই বাড়িতে হানা দেয়। তখন প্রোটোকল মানার কথা বলা হয়। তল্লাশির ব্যাপারে এরপর আবাসনের নিরাপত্তাকর্মীদের জানানো হয়। যৌথভাবে তল্লাশিতে গিয়ে আর সেখানে সুরজিতের সন্ধান পাওয়া যায়নি।