নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় এসেছে সবে তিন মাস হয়েছে। তার মধ্যেই গোষ্ঠী কোন্দলে মাথাচাড়া দিয়েছে। কোন্দলের কারণ তৃণমূলের কর্মীকে দলে যোগদান করানো হবে কি না, তা নিয়ে। তার জেরেই কাশীপুর-বেলগাছিয়া বিধানসভা কেন্দ্রের ১ নম্বর মণ্ডলের মহিলা মোর্চার সম্পাদিকাকে মদ্যপ অবস্থায় ব্যাপক মারধর, অশ্রাব্য গালিগালাজ ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির বিজেপির স্থানীয় এক নেতা ও তাঁর শাগরেদের বিরুদ্ধে। মহিলা মোর্চার সম্পাদিকা মঞ্জু যাদব বিজেপির ওই নেতা ও এক কর্মীর বিরুদ্ধে সিঁথি থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। তার ভিত্তিতে মামলা রুজু করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, অভিযুক্তদের নাম দীননাথ কুর্মি ও রাজকুমার মণ্ডল।
ঘটনার সূত্রপাত ১ আগস্ট। সেদিন সিঁথি থানা এলাকার ৩০এ বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে খিচুড়ি বিতরণ চলছিল। অভিযোগকারিণী মঞ্জু যাদবের দাবি, ‘সেই অনুষ্ঠানের মঞ্চেই তৃণমূলের কয়েকজন মহিলা কর্মীকে দলে যোগ দেওয়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছিলেন দীননাথ কুর্মি নামের ওই নেতা।’ মঞ্জুদেবীর দাবি, সেই প্রস্তাব বারবার ফিরিয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারিণী বলেন, ‘শীর্ষ নেতৃত্বের স্পষ্ট নির্দেশ, তৃণমূলের কাউকে দলে নেওয়া যাবে না। মহিলা মোর্চা এভাবে কাউকে দলে যোগদানের বিরোধী। তাঁকে বাধা দেওয়ায় তার জেরেই আক্রোশ গিয়ে পড়ে আমার উপর।’
অভিযোগ, পরের দিন রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ বিজেপির দুই কর্মী মহিলা মোর্চার সম্পাদিকাকে রামলীলা বাগানের পল্লিবাসী ক্লাবের মাঠে ডেকে পাঠান। সেখানে দীননাথ ও তাঁর অনুগামী রাজকুমার মণ্ডল মদ্যপ অবস্থায় তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারধর করে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারিণী। মহিলা তৃণমূল কর্মীদের দলে যোগ দিতে না দিলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি পর্যন্ত দেয় অভিযুক্তরা। এরপর মঞ্জুদেবী দলের উচ্চতর নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানান। একইসঙ্গে সিঁথি থানার দ্বারস্থ হন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, মহিলার অভিযোগ গৃহীত হয়েছে। এফআইআর দায়ের করে গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে। মহিলা নেত্রী বলেন, ‘আমার প্রতি অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো মহিলার সঙ্গে ওই ভাষায় কথা বলা যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর এর ঘোরতর বিরোধী। তাই আমি থানার দ্বারস্থ হয়েছি, যাতে অভিযুক্তরা পরবর্তীকালে কোনো মহিলার উপর এমন ঘটনা না ঘটায়।’
উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বেহালায় মহিলা মণ্ডল সভাপতিকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছিল। সেখানেও অভিযুক্ত খোদ শাসকদলের সমর্থকরা। ঠাকুরপুকুর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর করেন বেহালা পূর্ব বিধানসভার ৪ নম্বর মণ্ডলের সভাপতি।