Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

হিসেবরক্ষককেই কিংপিন মনে করছে মহারাষ্ট্র পুলিশ, অডিট হবে বর্ধমান পুরসভায়

অর্থ তছরুপের ঘটনায় বর্ধমান পুরসভার হিসেবরক্ষককেই ‘কিংপিন’ বলে মনে করছে মহারাষ্ট্র পুলিশ।

হিসেবরক্ষককেই কিংপিন মনে করছে মহারাষ্ট্র পুলিশ, অডিট হবে বর্ধমান পুরসভায়
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: অর্থ তছরুপের ঘটনায় বর্ধমান পুরসভার হিসেবরক্ষককেই ‘কিংপিন’ বলে মনে করছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। সমীর মুখোপাধ্যায় নামে ওই হিসেবরক্ষককে চারদিনের হেফাজতে নিয়ে তদন্তকারীরা জেরা করছেন। আইনজীবী স্বরাজ ঘোষ বলেন, মহারাষ্ট্র পুলিশ উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে কাজ করছে। আদালত একটি কেসে ওই হিসেবরক্ষককে জামিন দিয়েছে। আবার অন্য একটি কেসে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মঙ্গলবার আবার তাকে নাগপুর জেলা আদালতে তোলা হবে। এদিকে, বর্ধমান পুর কর্তৃপক্ষ কিছুদিনের মধ্যেই অডিট করাতে চলেছে। যদিও তাদের দাবি, এই অডিটের সঙ্গে সাম্প্রতিক ঘটনার সম্পর্ক নেই। নিয়ম মেনে রুটিন অডিট করা হবে। 

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্ধমান পুরসভার দু’টি চেক ব্যবহার করে প্রায় দেড় কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। পুরসভা টাকা ফেরত পেয়ে গিয়েছে। কিন্তু, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের অভিযোগে মহারাষ্ট্র পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। তদন্তকারীরা চারজন সাইবার প্রতারককে গ্রেফতার করেছেন। ধৃতদের মোবাইলের কললিস্টে পুরসভার হিসেবরক্ষকের ফোন নম্বরও পেয়েছেন। এছাড়া, তাঁদের হাতে আরও বেশকিছু প্রমাণ আসে। তারপরই ওই হিসেবরক্ষককে গ্রেফতার করা হয়। আধিকারিকদের দাবি, ওই হিসেবরক্ষক সব জানত। ব্যাঙ্ক থেকে তার মোবাইলে ফোন এসেছিল। চেক জমা হওয়ার পর ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা ক্যাশিয়ারকে ফোনও করেছিলেন। তার সম্মতি পাওয়ার পরই চেক ক্যাশ করা হয়েছিল। চেক সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য প্রতারকরা ওই হিসেবরক্ষকের কাছ থেকেই পেয়েছিল। 
যদিও পুরকর্তৃপক্ষ তা মানতে রাজি নয়। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, চেক ক্লোন করা হয়েছিল। পুরসভা থেকে কোনও চেক বেরয়নি। ক্লোন হওয়া দু’টি নম্বরের চেক পুরসভাতেই রয়েছে। বিষয়টিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের গুরুত্ব দেওয়া দরকার ছিল। তারা সতর্ক হলে এতবড় কাণ্ড হতো না।
আদালতে তদন্তকারীরা দাবি করেছন, ধৃতরা জেরাতেও হিসেবরক্ষকের নাম জানিয়েছে। তাদের সঙ্গে হিসেবরক্ষকের একাধিকবার ফোনে কথা হয়েছে। কললিস্টেও সেই প্রমাণ রয়েছে। হিসেবরক্ষক জেরায় জানিয়েছে, তার মোবাইল নম্বরও ক্লোন করা হয়েছিল। তার যুক্তি অবশ্য তদন্তকারীরা মানতে নারাজ। মোবাইল নম্বর ক্লোন হলে সে কেন পুলিশের দ্বারস্থ হয়নি? সেই প্রশ্নও তাঁরা তুলেছেন। রহস্যভেদ করতে ওই আধিকারিককে টানা জেরা করা দরকার বলে মহারাষ্ট্র পুলিশ মনে করছে। এই ঘটনায় বর্ধমান পুরসভার আর কেউ জড়িত রয়েছে কি না, খতিয়ে দেখার জন্য ফের মহারাষ্ট্র পুলিশ আবার বর্ধমানে আসতে পারে। শহরের বাসিন্দারাও চাইছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক। দোষীদের কড়া শাস্তির দাবিও উঠেছে। রহস্য উন্মোচন না হলে আগামী দিনে এধরনের ঘটনা আবারও ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ