Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহারাষ্ট্র সাইবার গ্যাংয়ের টার্গেট এবার রাজ্যের পুরসভাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট

মহারাষ্ট্র সাইবার গ্যাংয়ের টার্গেট বাংলার বিভিন্ন পুরসভাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। চেক ক্লোন করতে তারা সিদ্ধহস্ত। অফিসের মধ্যে সোর্স তৈরি করে চেক সংক্রান্ত খুঁটিনাটি সংগ্রহ করে।

মহারাষ্ট্র সাইবার গ্যাংয়ের টার্গেট এবার রাজ্যের পুরসভাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট
  • ১১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মহারাষ্ট্র সাইবার গ্যাংয়ের টার্গেট বাংলার বিভিন্ন পুরসভাগুলির ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। চেক ক্লোন করতে তারা সিদ্ধহস্ত। অফিসের মধ্যে সোর্স তৈরি করে চেক সংক্রান্ত খুঁটিনাটি সংগ্রহ করে। তারপরই তারা প্রতরণার জাল ছড়িয়ে দেয়। বর্ধমান পুরসভার অর্থ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তদন্তে নেমে পুলিস এমনই তথ্য পেয়েছে। মহারাষ্ট্র পুলিস ওই ঘটনায় বিনোদ নামদেবরাও মেটে, তুষার মূর্তিধর হারনে, ভূষণ মাহেন্দর পান্ধে নামে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা নাগপুরের বাসিন্দা। ধৃতদের জেরা করে তদন্তকারীরা প্রতারণা সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য পেয়েছে। আরও দু’জন প্রতারক ফেরার। তারা রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতারকরা নিখুঁত কায়দায় অপারেশন সারে। প্রথম দিকে পুর কর্তৃপক্ষ তা টের পায় না। যখন বিষয়টি তাদের নজরে আসে ততদিনে সময় অনেক চলে যায়। বর্ধমান ছাড়াও রাজ্যের আরও একটি পুরসভা থেকে সাইবার প্রতারকরা টাকা হাতানোর চেষ্টা করে। এক আধিকারিক বলেন, চক্রটি অন্যান রাজ্যেও প্রতারণা করেছে। এই চক্রের অনেকেরই নাম পুলিস জানতে পেরেছে। তাদের মধ্যে চারজন পাকড়াও হয়েছে। বাকিদের পুলিস প্রায় চার মাস ধরে খুঁজছে। বর্ধমান পুরসভার অ্যাকাউন্ট থেকে এই গ্যাংটি প্রায় দেড় কোটি টাকা প্রতরণা করে। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষর তৎপরতায় তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। অন্য অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর করা পুরো টাকা ব্যাঙ্ক বাজেয়াপ্ত করে। পরে তা ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার তদন্তের দাবিতে রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাঙ্ক মহারাষ্ট্রের সাইবার ক্রাইম থানায় অভিযোগ করে। তদন্তে নেমে সাইবার প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে তারা। পুরসভার এক আধিকারিকও গ্রেপ্তার হয়। যদিও পুর কর্তৃপক্ষর দাবি, ওই আধিকারিক জড়িত নন। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, চেকে কাদের সই রয়েছে, তা ব্যাঙ্কের দেখা দরকার ছিল। টাকা হস্তান্তর করার আগে তা আরও ভালোভাবে খুঁটিয়ে দেখা উচিত ছিল। যদিও ব্যাঙ্কের আধিকারিকরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন, চেক ক্লিয়ারেন্স করার আগে পুরসভার এক আধিকারিককে ফোন করা হয়েছিল। তাঁর নম্বর নথিভুক্ত ছিল। সেখান থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই চেক ইস্যু করা হয়েছিল। এক আধিকারিক বলেন, বর্ধমান পুরসভার ওই ঘটনার ব্যাঙ্ক আরও সতর্ক হয়েছে। টাকা হস্তান্তর করার আগে তারা আরও বেশি করে নিশ্চিত হতে চাইছে। মহারাষ্ট্র সাইবার গ্যাংয়ের অনেকেই ফেরার রয়েছে। তারা এই কায়দায় অন্যান পুরসভার অ্যাকাউন্ট সাফ করতে পারে। সেই কারণেই ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। এই গ্যাংটি এর আগে অন্য রাজ্যের একাধিক প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট সাফ করেছে বলে পুলিস জানতে পেরেছে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ