


মুম্বই: ফের গেরুয়া ব্রিগেডের নিশানায় স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান কুণাল কামরা। সম্প্রতি একটি স্ট্যান্ড আপ শোতে মহারাষ্ট্রের উপ মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধেকে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এই কৌতুকশিল্পী। এই ঘটনায় সিন্ধে-পন্থী শিবসেনার রোষের মুখে পড়েছেন তিনি। এবার এই বিতর্কে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ। সোমবার তিনি বলেছেন, কুণালকে ক্ষমা চাইতে হবে। উপ মুখ্যমন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। সিন্ধেকে নিয়ে কুণালের মশকরায় কোনও হাস্যরস নেই। নেতাদের অপমান বরদাস্ত করা হবে না। আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
মুম্বইয়ে যে হোটেলের এক স্টুডিওতে অনুষ্ঠান হয়েছিল, রবিবার রাতে সেই স্টুডিওতে ভাঙচুর চালায় শিবসেনা। এই ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। অবশ্য ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ১১ জন জামিন পেয়ে যান। এরপরই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিবসেনা (উদ্ধবপন্থী) নেতা আদিত্য থ্যাকারে। তিনি বলেন, ‘সমালোচনা গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে সম্প্রতি একটি পডকাস্টে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু বিজেপির জোটসঙ্গীর আচরণ মোদির বক্তব্যের পরিপন্থী।’
বিতর্কের মধ্যেই মুখ খুলেছেন কৌতুকশিল্পী। সোমবার পুলিসকে কামরা জানিয়েছেন, নিজের মন্তব্যের জন্য তিনি মোটেও অনুতপ্ত নন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর ‘ক্ষমা’ প্রার্থনার বার্তা প্রসঙ্গেও প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন কুণাল। বলেছেন, একমাত্র আদালত নির্দেশ দিলেই তিনি ক্ষমা চাইবেন। এদিকে, সিন্ধে সম্পর্কে এই মন্তব্যের নেপথ্যে বিরোধীদের মদতেরও অভিযোগ উঠেছে। এজন্য কুণালকে টাকাও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। এদিন তামিলনাড়ু থেকে পুলিস আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় সেই দাবি অবশ্য নস্যাৎ করেছেন বিতর্কিত এই স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান। শুধু তাই নয়, কোনও আর্থিক লেনদেন থাকলে তা খতিয়ে দেখার জন্য পুলিসকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি, চলতি বিতর্কের আবহেই কুণাল হাতে সংবিধান ধরে নিজের একটি ছবি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন। সঙ্গে লিখেছেন, ‘সামনে এগনোর একমাত্র পথ।’
মুম্বইয়ের হোটেল ইউনিকন্টিনেন্টালে হ্যাবিট্যাট স্টুডিওতে পারফর্ম করেছিলেন কুণাল। ওই অনুষ্ঠানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর রবিবার রাতে সেখানে ভাঙচুর করে সিন্ধের দলের সমর্থকরা। যদিও অনুষ্ঠানে মন্তব্যের দায় কোনওভাবেই স্টুডিওর উপরে বর্তায় না বলে জানিয়েছিলেন স্টুডিওর মালিকরা। তাতেও অবশ্য চিঁড়ে ভেজেনি। পরে মালিকদের তরফে বলা হয়, ‘নিজেদের ও স্টুডিওকে বিপদে না ফেলে কীভাবে অবাধে মতপ্রকাশ করতে দেওয়া যেতে পারে, তা যতদিন পর্যন্ত আমরা ঠিক করতে না পারছি, ততদিন স্টুডিও বন্ধ রাখা হবে।’