Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এবার শিলিগুড়ি শহরের প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ করবে মহকুমা পরিষদ, বৈঠকে সিদ্ধান্ত

প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের কদর ঊর্ধ্বমুখী। মাত্র ছ’মাসে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ঘোষপুকুরের ইউনিটে উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ডাস্ট।

এবার শিলিগুড়ি শহরের প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ করবে মহকুমা পরিষদ, বৈঠকে সিদ্ধান্ত
  • ১১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটের কদর ঊর্ধ্বমুখী। মাত্র ছ’মাসে শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের ঘোষপুকুরের ইউনিটে উৎপাদনের পরিমাণ প্রায় সাড়ে পাঁচ মেট্রিক টন প্লাস্টিক ডাস্ট। তা দিয়ে গ্রামীণ এলাকায় তৈরি হয়েছে রাস্তাও। এখন শহর থেকেও প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করতে চায় পরিষদ। এজন্য মঙ্গলবার পুরসভা ও মহকুমা পরিষদের আধিকারিকরা বৈঠক করেছেন। 

Advertisement

মহকুমা পরিষদের সভাধিপতি অরুণ ঘোষ বলেন, গ্রামীণ এলাকার পাশাপাশি শহর থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াকরণ করতে চাই। এ বিষয়ে মেয়র গৌতম দেবের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। প্রশাসনিক পর্যায়েও আলোচনা চলছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরে প্লাস্টিক বর্জ্য কমবে ও পরিবেশ দূষণ কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণ হবে। 
ছ’মাস আগে পিপিপি মডেলে ঘোষপুকুরে ওই ইউনিট চালু করেছে মহকুমা পরিষদ। প্রশাসন সূত্রে খবর, মহকুমার চারটি ব্লকের অন্তর্গত ২২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। 
এজন্য গ্রামে গ্রামে ডাস্টবিন বাসানো হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি থেকেও সংগ্রহ করা হচ্ছে জঞ্জাল। সংশ্লিষ্ট ইউনিটে প্লাস্টিক বর্জ্যের ধুলো অপসারণ, ধোয়া, শুকানো, প্লাস্টিক টুকরো টুকরো করা হয়। সবশেষে সেগুলি প্রক্রিয়াকরণ করে ডাস্ট তৈরি করা হয়। 
ছ’মাসে এভাবে প্রায় ৫.৩ মেট্রিক টন প্লাস্টিকের ডাস্ট তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে ৬৫ টাকা কেজি দরে বিভিন্ন ঠিকাদার সংস্থার কাছে বিক্রি করা হয়েছে ১.৮ মেট্রিক টন ডাস্ট। যা দিয়ে মাটিগাড়া ও নকশালবাড়িতে দু’টি রাস্তা তৈরি হয়েছে। আরও রাস্তা তৈরির কাজ চলছে। বর্তমানে ইউনিটে মজুত ডাস্টের পরিমাণ ৩.৫ মেট্রিক টন। সভাধিপতি বলেন, দু’টি সংস্থার মাধ্যমে ইউনিটটি পরিচালনা করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসে প্লাস্টিক ডাস্ট দিয়ে ২০ কিমি রাস্তা তৈরি করা হবে। 
এদিকে, শিলিগুড়ি শহর ও গ্রামীণ দুই এলাকায় প্লাস্টিকের ব্যবহার নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে পুরসভা অভিযান চালিয়েও প্লাস্টিক বন্ধ করতে পারেনি। নিষিদ্ধ প্লাস্টিক শহরের বাজার সহ বিভিন্ন জায়গায় রমরমিয়ে চলছে বলে অভিযোগ। পুরসভা প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ ইউনিটও তৈরি করতে পারেনি। সেই প্লাস্টিকের জেরে নিকাশি নালা অবরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় পুরসভার পাশে দাঁড়াতে চাইছে পরিষদ। তারা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে প্লাস্টিক বর্জ্য তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। এজন্য এদিন পুরসভা ও মহকুমা পরিষদের আধিকারিকরা বৈঠক করেন। বৈঠকে অতিরিক্ত জেলাশাসক (মহকুমা পরিষদ) নির্মাল্য ঘরামি, পুরসভার কমিশনার শেরিং ওয়াই ভুটিয়া, পুরসভার সচিব অনাবিল দত্ত প্রমুখ ছিলেন। 
প্রশাসন সূত্রে খবর, শহরের প্লাস্টিক বর্জ্য প্রদান করতে আগ্রহী পুরকর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে তারা দৈনিক ১০০ কেজি করে বর্জ্য ওই ইউনিটে পৌঁছে দেবে। এরপর সুডার সঙ্গে আলোচনা করে তারা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বলে বৈঠকে জানিয়েছে। পুরসভা ও মহকুমা পরিষদের আধিকারিকরা জানান, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শহরের ব্যাপক উপকার হবে। নিকাশি নালা থেকে প্লাস্টিক বর্জ্যের সংখ্যা কমবে। 
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর ফাঁসিদেওয়া ব্লকের ঘোষপুকুরের সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পে ওই ইউনিটের উদ্বোধন করা হয়। এই প্রকল্পে অফিস ঘর নির্মাণ, মেশিন বসানো প্রভৃতিতে খরচ হয়েছে প্রায় ৭৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। 
মিশন নির্মল বাংলা ও পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে সেই অর্থ জোগাড় করা হয়েছে। দৈনিক এখানে এক টন প্লাস্টিক প্রক্রিয়াকরণ সম্ভব। গ্রামীণ এলাকা থেকে দৈনিক প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের পরিমাণ ৪০০ থেকে ৫০০ কেজি।        

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ