সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: এবার কোচবিহারে মদনমোহনের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসবে বাজেট ১৪ লক্ষ ৮১ হাজার টাকা। গতবারের থেকে এবার বাজেট প্রায় ৬০ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। ইতিমধ্যেই মদনমোহন মন্দিরকে সাজিয়েগুছিয়ে সুন্দর করে তোলার কাজ শুরু হয়েছে। মন্দির, দেওয়াল সবকিছু মেজে ঘষে রং করা হবে। সেই কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। অন্যদিকে, রাসচক্র বানানোর কাজ যেমন শুরু হয়েছে তেমনই ভাইফোঁটার পরেই বৈরাগী দিঘি থেকে তোলা হবে রাসচক্রের মূল খুঁটি।
রাসযাত্রার আগে মদনমোহন মন্দিরের অফিস ঘরের দরজা-জানালা, পুতুল ঘর, টাইলস ইত্যাদি সংস্কার করা হবে। আগামী ৫ নভেম্বর মদনমোহনের রাসযাত্রা। তার আগে ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় মদনমোহনের রাসযাত্রার অধিবাস। পরের দিন বিকেল ৫টায় পসার ভাঙা। সেই সময় থেকেই শুরু হয়ে যাবে রাসযাত্রার পুজারম্ভ। সন্ধ্যা ৬টায় রাসযাত্রার সূচনা করা হবে। এরজন্য মন্দির চত্বরে ইতিমধ্যেই সাজোসাজো রব পড়ে গিয়েছে। মন্দিরের সামনে দু’পাশের মাঠের ঘাস ছাঁটা হয়েছে। দেওয়ালের শ্যাওলা ঘষে পরিষ্কার করা হচ্ছে।
মদনমোহন মন্দিরের কর্মী জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন,প্রতিবছরের মতো এবারও মদনমোহনের রাসযাত্রার জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। এবার রাস উৎসবের বাজেট প্রায় ৬০ হাজার টাকা বেড়েছে। রাস উৎসবের দিনগুলিতে মন্দিরে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলবে। সেই সব টিমের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে।
গতবছর মদনমোহনের রাস উৎসবের বাজেট ছিল ১৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। এবার তা বেড়ে হয়েছে ১৪ লক্ষ ৮১ হাজার ২৮৬ টাকা। মদনমোহনের রাস উৎসবকে কেন্দ্র করেই কোচবিহারের রাসমেলা হয়। যেখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম ঘটে। ফলে তার প্রস্তুতি বহু আগে থেকেই শুরু হয়ে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেমন এই প্রস্তুতি চলে তেমনই পুরসভার পক্ষ থেকেও রাসমেলার জন্য অনেক আগে থেকেই পদক্ষেপ করা হয়। সেই সঙ্গে দেবোত্তর ট্রাস্ট বোর্ডের অধীনে হওয়া রাস উৎসবকে সফল করে তুলতে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে আনেক আগে থেকেই পদক্ষেপ করা হয়। সেই মতো কাজও শুরু হয়ে গিয়েছে।
রাস উৎসবের আগে পুরো মন্দির চত্বর সেজে উঠবে। ফ্যাসাড আলো, রাসচক্র, মাঠের চার ধারে পুতুল ঘরগুলিতে বিভিন্ন দেবদেবী, পৌরানিক ঘটনার মডেল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হবে। মাঠের মাঝে পুতনা রাক্ষসীর মডেল এবারও থাকবে বলে জানা গিয়েছে।