Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ম্যাডাম, আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, রায়নার মামনির আর্জিতে সাড়া ডিএমের

সংসারের আর্থিক অনটন বহুদিন ধরেই চলছে। তার উপর স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অথই জলে পড়েন রায়না-২ ব্লকের উচালন এলাকার মামনি বাস্কে। বাড়িতে রয়েছে ছ’বছরের সন্তান।

ম্যাডাম, আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই, রায়নার মামনির আর্জিতে সাড়া ডিএমের
  • ২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান:  সংসারের আর্থিক অনটন বহুদিন ধরেই চলছে। তার উপর স্বামী ছেড়ে চলে যাওয়ার পর অথই জলে পড়েন রায়না-২ ব্লকের উচালন এলাকার মামনি বাস্কে। বাড়িতে রয়েছে ছ’বছরের সন্তান। তাই হারলে চলবে না। জীবনযুদ্ধে জয়ী হতেই হবে। কিন্তু, কোন পথে গেলে আলোর দিশা দেখা যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে চলছিলেন তিনি। অবশেষে তাঁর মাথায় আসে পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েশা রানি এ-র কথা। জেলাশাসক জেলার মহিলাদের নিজের পায়ে দাঁড় করাতে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছেন। সে কথা জানতে পারেন তিনি। এরপর তিনি উচালন থেকে সোজা চলে আসেন বর্ধমানে। জেলাশাসকের কাছে এসে বলেন, ম্যাডাম আমি নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাই। আর্জি শুনেই জেলাশাসক বলেন, গাড়ি চালানো শিখবে? গাড়ি চালানোর কথা শুনে প্রথমদিকে মামনি কিছুটা থতমত খেয়ে যান। পরে সেই প্রস্তাবে রাজি হয়ে যান।

Advertisement

তিনি যাতে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ নিতে পারেন, তার ব্যবস্থা করেন জেলাশাসক। মঙ্গলবার থেকেই মামনি প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে বড় গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দিচ্ছে পরিবহণ দপ্তর। জেলার মহিলারা আগামী দিনে অ্যাম্বুলেন্স চালাবেন। এছাড়া, তাঁরা যাতে লোন নিয়ে গাড়ি কিনে স্টিয়ারিং ধরতে পারেন, সেই বন্দোবস্তও করে দেবে জেলা প্রশাসন। কয়েকদিন ধরেই প্রশিক্ষণ শিবির শুরু হয়েছে। এদিন সেই শিবিরে নতুন করে যোগ হয়েছে মামনি বাস্কের নাম। তিনি বলেন, জেলাশাসকের কাছে কাজের জন্য এসেছিলাম। আমি কী শিখে আয় করতে চাই, তা তিনি জানতে চান। পরে গাড়ি চালানো শেখার পরামর্শ দেন। আমাদের গ্রামের কোনও মহিলাই অ্যাম্বুলেন্স বা অন্য চারচাকা গাড়ি চালান না। আমি কোনওদিন গাড়ি চালানো শিখতে পারব, ভাবতেই পারিনি। জেলাশাসক আমাকে আয়ের রাস্তা দেখিয়েছেন। গাড়ি চালানো শিখে গেলে আর সংসার চালাতে অসুবিধা হবে না। গাড়ি চালানোর আয়েই সংসার খরচ উঠে আসবে।
জেলাশাসক বলেন, মামনির মতো আর কেউ স্বনির্ভর হতে চাইলে তাঁকেও গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। কেউ সেটা করতে না চাইলে বিউটিসিয়ান বা অন্য কাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারাও বিউটিসিয়ানের কাজ করে আয় করতে পারবেন। স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলির জন্য সরকার লোনের ব্যবস্থা করছে। সেই টাকায় তাঁরা কোনও প্রকল্প নিয়ে আয় করতে পারেন।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার প্রত্যন্ত এলাকার মহিলারাও হেঁসেলের কাজ করার পাশাপাশি স্বনির্ভর হতে চাইছেন। ঘরের অনটন দূর করতে তাঁরা বড় ভূমিকা নিতে চাইছেন। সেই কারণেই হয়তো মামনির মতো মহিলারাও গাড়ির স্টিয়ারিং ধরতে চাইছেন। প্রশিক্ষণ শেষে শুধু গাড়ি নয়, সংসারের স্টিয়ারিংও তাঁদের হাতেই থাকবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ