Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানের রাজার নামে নৈবেদ্য দিয়ে শুরু মা যোগাদ্যার পুজো

বর্ধমানের রাজার নামে নৈবেদ্য দিয়ে শুরু মা যোগাদ্যার পুজো
  • ১৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, কাটোয়া: বর্ধমানের রাজার নামে নৈবেদ্য দিয়েই শুরু হল মঙ্গলকোটের ক্ষীরগ্রামে মা যোগ্যাদ্যা আরাধনা। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হয়েছে মা যোগাদ্যার পুজো। দেবীকে দেখতে এদিন ভক্তের ঢল নেমেছে।  গ্রামজুড়ে শুরু হয়েছে উৎসব।  মা যোগাদ্যা পুজো কমিটির পক্ষে বরুণ চক্রবর্তী বলেন, প্রথমে বর্ধমানের রাজার নামে নৈবেদ্য দিয়ে পুজো হয়। তারপর বাকি পুজো শুরু হয়। আমরা পুরনো প্রথা মেনেই পুজোর আয়োজন করি। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কথিত আছে ক্ষীরগ্রামে সতীদেহের ডান পায়ের আঙুল পড়েছিল। সারাবছর যোগাদ্যা মাকে মন্দিরের পাশেই ক্ষীরদিঘিতে ডুবিয়ে রাখা হয়। বৈশাখ মাসের সংক্রান্তিতে মাকে জল থেকে তুলে মূল মন্দিরে রেখে চলে পুজো। তারপর আবার ওইদিন রাতেই মাকে জলে দিয়ে দেওয়া হয়। এটাই রীতি। এছাড়াও বছরের বিশেষ কিছুদিন মা যোগাদ্যাকে  জল থেকে তুলে পুকুর পারেই পুজো করা হয়। তবে সেটা ভক্তদের দেখতে দেওয়া হয় না।  এদিন ভোর থেকেই কাতারে কাতারে ভক্ত আসেন মাকে দেখতে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মা যোগাদ্যাকে দেখতে ভক্তদের সমাগম হয়েছে। মন্দির চত্বরে গেস্টহাউসগুলি উপচে পড়েছে। কলকাতা থেকেও প্রচুর ভক্ত এসেছেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিস কর্মী মোতায়েন রয়েছে। কাটোয়ার এসডিপিও কাশীনাথ মিস্ত্রি নিজে মন্দিরের গর্ভগৃহে ছিলেন সারাদিন। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জলের প্যাকেট রাখা হয়েছে ভক্তদের জন্য। মঙ্গলকোটের বিধায়ক অপূর্ব চৌধুরী বলেন, পুজোয় সবরকম সাহায্যের জন্য আমরা ব্যবস্থা করেছি। দশনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধা না হয় তারজন্য আমরা পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করেছি। পাশাপাশি জলসত্রও খোলা হয়েছে।  আরও জানা গিয়েছে, নির্ঘণ্ট মেনে বৈশাখ মাসের সংক্রান্তিতে জল থেকে তুলে পুজো দিয়ে প্রতীকী নররক্তের পুজো দিয়ে আবার জলে ডুবিয়ে রাখা হয়। শাস্ত্রীয় প্রথা ও পরম্পরা মেনে গ্রামের এক পরিবার আজও দেবীর উদ্দেশ্যে শরীর থেকে কয়েক ফোঁটা রক্ত দেন। তারপর শুরু হয় মহাপুজোর আয়োজন। মা যোগ্যাদ্যা দেবী মহামায়ার অন্য এক রূপ। মার্কণ্ডেয় পুরাণে এই দেবীর বর্ণনা পাওয়া যায়। অবধূতা রামায়ণ অনুসারে মহাকালী বা ভদ্রকালী অর্থাৎ দেবী মহামায়ার সেবক মহীরাবণ, অবতার রাম ও লক্ষ্মণকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে ছলনায় পাতালে নিয়ে যান। মহাকালীর সামনে বলিদান দেওয়ার সময় মহীরাবণকেই বধ করে লক্ষণ। পরে দেবী মহামায়া সহ সেবক হনুমান রাম ও লক্ষ্মণকে উদ্ধার করে তিন দিন ধরে লাগাতার পাতাল পথে এই ক্ষীরগ্রামে ওঠেন। অবতার রাম ও লক্ষ্মণ রাঢ় অঞ্চলে থাকতে পারেননি। কিন্তু দেবী মহামায়া বা মহাকালী বা ভদ্রকালী যোগ্যাদ্যা রূপে রাঢ় বঙ্গে পূজিত হতে শুরু করে। এদিকে পুজো উপলক্ষ্যে প্রচুর মেলা, খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। তবে ডিজের দাপটে গ্রামের মানুষ অতিষ্ট হয়েছেন সারাদিন রাত। বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় রীতিমতো ডিজের প্রতিযোগিতা চলে।   মা যোগাদ্যার পুজোয় ভিড়।-নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ