Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বন্দে মাতরম শিখতে ব্যস্ত স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা

জ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন প্রতিটি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। স্কুলের পাশাপাশি সরকারি মাদ্রাসাতেও একই নিয়ম।

বন্দে মাতরম শিখতে ব্যস্ত স্কুল ও মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষিকারা
  • ২ জুন, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, বহরমপুর: গরমের ছুটির পর সোমবার থেকে স্কুল খুলেছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন প্রতিটি স্কুলে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে। স্কুলের পাশাপাশি সরকারি মাদ্রাসাতেও একই নিয়ম। এতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটা বড় অংশই মহা ফ্যাসাদে পড়েছেন। তাঁদের একটা বড় অংশেরই ছয় স্তবকের বন্দেমাতরম মুখস্ত নেই। তাই কেউ সকাল-বিকেল বই দেখে গান মুখস্ত করছেন, আবার কেউ ইউটিউব দেখে গেয়ে ধাতস্থ হচ্ছেন। ইউটিউবে বন্দে মাতরম গানের ভিডিয়োর ভিউ তরতরিয়ে বাড়ছে।

Advertisement

এতদিন জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি বেশিরভাগ মাদ্রাসায় বিশেষ সঙ্গীত হিসাবে ‘অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি, বিচার দিনের স্বামী’ গাওয়া হত। এবার ক্লাস শুরুর আগে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসাবে বন্দে মাতরম গাইতে হবে। এতে মাদ্রাসা শিক্ষকদের অনেকেই বলছেন, পড়ুয়াদের পাশাপাশি তাঁদের অনেকেও বই না দেখে বন্দে মাতরম গাইতে পারবেন না। কারণ এই গান নিয়ে সেরকম চর্চা নেই। এখন বারবার শুনে মুখস্ত করতে হচ্ছে।
মুর্শিদাবাদ জেলা শিক্ষা ভবনের এক আধিকারিক বলেন, স্কুলের পর এবার মাদ্রাসাতেও প্রার্থনা সভায় বন্দে মাতরম গাওয়া বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ এসেছে। সমস্ত মাদ্রাসাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তারা প্রস্তুতি নিচ্ছে।
১৮৭৫সালে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ছ’টি স্তবকে বন্দে মাতরম লিখেছিলেন। ১৮৮২ সালে তা ‘আনন্দমঠ’ উপন্যাসের অন্তর্ভুক্ত করেন। ১৯৫০ সালের ২৪জানুয়ারি ভারতের গণপরিষদ বন্দে মাতরমকে জাতীয় গানের মর্যাদা দেয়। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রাথমিক, মাধ্যমিক সহ প্রতিটি স্কুলে প্রার্থনায় জাতীয় সঙ্গীতের আগে বন্দে মাতরম গাইতে হবে। সরকারি মাদ্রাসার ক্ষেত্রেও এই গান গাওয়া আবশ্যক করা হয়েছে। নির্দিষ্ট সুর, তাল, লয়ে বন্দে মাতরমের ছ’টি স্তবক গাইতে ৩মিনিট ১০সেকেন্ড সময় লাগে।
গোকর্ণ হাইস্কুলের শিক্ষক বেণীমাধব মণ্ডল বলেন, আমার ছেলে গানের চর্চা করে। এই ক’দিনে ছেলের কাছেই বন্দে মাতরমের ছ’টি স্তবক রপ্ত করে ফেলেছি। সংস্কৃত ও বাংলার মিশেলে লেখা এই গানের বেশ কিছু শব্দ বেশ জটিল। ফলে সমস্যা হওয়ারই কথা। অপর শিক্ষক উজ্জ্বল পাল বলেন, অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে সম্পূর্ণ গানটি লিখে পাঠিয়েছি। সুর ঠিক করার জন্য অডিও ফাইলও দেওয়া হয়েছে। পড়ুয়ারাও অনেকে গরমের ছুটির পর গানটি শিখেই স্কুলে এসেছে। এক শিক্ষিকা বলেন, ঘরের দেওয়ালে সম্পূর্ণ গানের কথা টাঙিয়ে রেখেছি। সময় পেলেই তাতে চোখ বোলাচ্ছি। আর গুনগুন করছি।
বহরমপুরের সিনিয়র মাদ্রাসার শিক্ষক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি নির্দেশিকা আমরা কার্যকর করছি। এখন অনেকেই পুরো গান মুখস্ত করতে ব্যস্ত। কোনো অসুবিধা হবে না।
বেঙ্গল মাদ্রাসা এডুকেশন ফোরামের রাজ্য সভাপতি ইসরারুল হক মণ্ডল বলেন, চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রার্থনা সভায় জাতীয় সঙ্গীত ও মাদ্রাসার বিশেষ সঙ্গীতের সঙ্গে বন্দে মাতরম গাইলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু শিক্ষাবর্ষের মাঝে শুধু বন্দে মাতরম গাইলে অসুবিধা হতে পারে। তবে সরকারের নির্দেশিকা মেনেই কাজ হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ