সংবাদদাতা, রামপুরহাট: পুলিশ কড়া হতেই এবার রোমিওদের স্ট্যান্টবাজিতে রাশ পড়ল। স্কুল টাইমেও দেখা যাচ্ছে না বাইক বাহিনীর দাপট। জনবহুল ও ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় ‘স্ট্যান্টবাজি’ বা দৈত্যাকার শব্দে রকেটের গতিতে এঁকেবেঁকে বাইক চলাচলের ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি স্কুল, কলেজের ছাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। স্কুল টাইমে বাইক বাহিনীর দাপট কমে যাওয়া নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর বলে জানাচ্ছেন অভিভাবকরা।
রাস্তায় বেরোলেই এতদিন রকেট গতির বাইক আর কানের পর্দা ফাটানো আওয়াজের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াত। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ এবং রোগীদের জন্য এই মাত্রাতিরিক্ত শব্দ মারাত্মক ক্ষতিকর। জাতীয় সড়কে এই ধরণের বাইকের স্ট্যান্ডবাজি করতে গিয়ে বেশ কয়েকজনের মৃত্যুও হয়েছে। তেমনই স্কুল শুরুর বা ছুটির সময়ে যখন রাস্তাঘাটে পড়ুয়া ও অভিভাবকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে, তখন এই ধরনের বেপরোয়া বাইক চালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। রাজ্যে পালাবদল হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে এসব বন্ধে কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।
নলহাটি, মুরারই, রামপুরহাট, ময়ূরেশ্বর সর্বত্র বাইক বাহিনীর দাপট রুখতে রাস্তায় নজরদারি বাড়িয়ে তুলছে ট্রাফিক পুলিশ। হেলমেট না থাকলে বা তিনজন যাত্রী থাকলে যেমন জরিমানা করা হচ্ছে, তেমনই আইন অমান্যকারীদের অন স্পট সাইলেন্সার খুলে নেওয়ার মতো কঠোর শাস্তিও দেওয়া হচ্ছে।
ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, মোটর ভেহিকেলস অ্যাক্ট অনুযায়ী, কোম্পানির দেওয়া নির্দিষ্ট সাইলেন্সার পরিবর্তন করে মডিফায়েড সাইলেন্সার যুক্ত করে অতিরিক্ত আওয়াজ তৈরি করা বেআইনি। এতে শুধু যে শব্দ দূষণ হয় তাই নয়, পরিবেশের শান্তিও বিঘ্নিত হয়। ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জরিমানা করে ছেড়ে দিলে অনেক সময় চালক ফের একই ভুল করে। কিন্তু প্রকাশ্য রাস্তায় বাইক আটকে মডিফাইড সাইলেন্সার খুলে নেওয়া ও ক্ষেত্রবিশেষে তা বাজেয়াপ্ত করার ফলে অন্য আইন অমান্যকারীদের কাছে একটি তীব্র ও স্পষ্ট বার্তা পৌঁছেছে। রাতেও জাতীয় সড়ক থেকে শহরের রাস্তায় আচমকা অভিযানে নামছে পুলিশ। আর তাতেই রোমিওদের দাপাদাপি অনেকটাই কমেছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, স্কুল টাইমে কিছু বাইক আরোহী অপ্রয়োজনীয় জটলা তৈরি করে। প্রশাসনের এই অন-স্পট অ্যাকশন ও কড়া মনোভাবের কারণে সেই ‘রোমিও’ বা উচ্ছৃঙ্খল বাহিনীর দাপট অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
নলহাটির এক স্কুল ছাত্রীর মা শ্যামলী মুখোপাধ্যায় বলেন, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার এই ধরণের অভিযান খুব প্রশংসনীয়। তবে একটাই আশা রাখব, এই তৎপরতা যেন কেবল ‘পালাবদল’ বা কোনো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে। দুর্ঘটনা এড়াতে ও শহরের রাস্তা সুরক্ষিত রাখতে পুলিশের এই নজরদারি যেন বছরভর সমানভাবে বজায় থাকে।
আরএক ছাত্রীর মা সুফিয়া ইয়াসমিন বলেন, জনবহুল ও ভিড়ে ঠাসা রাস্তায় যারা ‘স্ট্যান্টবাজি’ বা রকেটের গতিতে এঁকেবেঁকে বাইক চালায়, তারা শুধু নিজেদের নয়, সাধারণ পথচারী ও অন্য যানবাহনের জন্যও ক্ষতিকর। ডিএসপি ট্রাফিক কুনাল মুখোপাধ্যায় বলেন, দিনকয়েক ধরে লাগাতার অভিযানে অসংখ্য মডিফায়েড সাইলেন্সার আটক করা হয়েছে। এই অভিযান জারি থাকবে।