Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মা আমাকে বাঁচাও, ওরা বিক্রি করে দিয়েছে, আর্তি নাবালিকার

মা আমাকে বাঁচাও, ওরা বিক্রি করে দিয়েছে, আর্তি নাবালিকার
  • ২৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ‘মা বাঁচাও। ওরা আমাকে বিক্রি করে দিয়েছে। খুব কষ্টের মধ্যে আছি। ওরা আবার আমাকে অন্য জায়গায় বিক্রি করার পরিকল্পনা করছে। খুব ভয় লাগছে’। রাজস্থান থেকে ফোনে মেয়ের এমন আকুতি শুনে কষ্টে বুকফেটে যাচ্ছে মায়ের। ১৭ বছরের নাবালিকাকে উদ্ধারের জন্য গলসির সাটিনন্দীর দম্পতি প্রশাসনের দরজায় দরজায় ঘুরছেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৮ অক্টোবর থেকে মেয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়। তাঁরা গলসি থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু ‘দেখছি-দেখব’তেই তদন্ত থমকে রয়েছে বলে পরিবারের দাবি। তার মা বলেন, কয়েকদিন আগে মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফোন করে। সে জানায় রাজস্থানের পাছালিয়া এলাকায় তাকে আটকে রাখা হয়েছে। সেখানে তাকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের কাজ করানো হচ্ছে। তাকে তারা কিনেছে বলে কিছু লোকজন দাবি করছে। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তারা তাকে ফের অন্য জায়গায় বিক্রির হুমকি দিচ্ছে।
Advertisement
পরিবারের লোকজনরা বলেন, ২৮  অক্টোবর আচমকা মেয়ে বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যায়। বিভিন্ন জায়গায় তাকে খোঁজা হয়। আত্মীয়দের বাড়িতেও তাকে পাওয়া যায়নি। কয়েক দিন আগে আচমকায় তার ফোন আসে। তারপর থেকে পরিবারের লোকজনদের উদ্বেগ আরও বেড়ে গিয়েছে। তাঁরা বারবার থানায় যেতে থাকেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ওই নাবালিকার এক আত্মীয় বলেন, মেয়ে কোনও দিনই একা কোথাও যায়নি। সে কীভাবে রাজস্থানে পৌঁছে গেল তা বোঝা যাচ্ছে না। তাকে কেউ ভুল বুঝিয়ে সেখানে নিয়ে গিয়েছে। এরসঙ্গে নারী পাচারকারীরাও যুক্ত থাকতে পারে। মেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছে। ও লুকিয়ে অন্য একজনের মোবাইল থেকে ফোন করে। সে লোকেশনও পাঠিয়েছে। পুলিস উদ্যোগ নিলেই তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, এর আগেও জেলার বেশ কয়েকজন নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে ভিনরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই ভিনরাজ্যের যুবকদের সঙ্গে তাদের পরিচয় হয়। এক্ষেত্রে তেমন কিছু হয়েছে কি না তা পুলিস তদন্ত করেছে। এর আগে নাদনঘাট, মন্তেশ্বর সহ বিভিন্ন থানায় নাবালিকাদের ভিনরাজ্যে অপহরণ করার অভিযোগ উঠেছিল। তাদের সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গলসির ওই নাবালিকাকেও উদ্ধার করা হবে বলে পুলিসের দাবি। পরিবারের লোকজনরা জানিয়েছেন, মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর দু’মাস কেটে গিয়েছে। গলসি থানা আগে উদ্যোগ নিলে মেয়ে ঘরে ফিরত। তাড়াতাড়ি তাকে উদ্ধার না করা হলে সে আরও বড় বিপদে পড়তে পারে। তার কাছে ফোন নেই। তবে যে নম্বর থেকে সে ফোন করেছিল সেটি এখনও চালু রয়েছে। ফোন করলে এক ব্যক্তি কথা বলছে। ওই নাবালিকাকে সবসময় বাড়ির বাইরে বেরতে দেওয়া হয় না বলে অভিযোগ।
সম্পর্কিত সংবাদ