Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নার্সিংহোমে এসে পরিচয় থেকে প্রেম ও পরিণয়, পরকীয়া সন্দেহে স্বামীর পেটে ছুরি স্ত্রীর

সালিশি সভায় স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা চলছিল। বর্ধমানের তালিতের দিঘির পাড়ে দু’পক্ষেরই বাড়ির লোকজন ছিলেন। এলাকার মাতব্বররাও হাজির ছিলেন।

নার্সিংহোমে এসে পরিচয় থেকে প্রেম ও পরিণয়, পরকীয়া সন্দেহে স্বামীর পেটে ছুরি স্ত্রীর
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সালিশি সভায় স্বামী এবং স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ নিয়ে আলোচনা চলছিল। বর্ধমানের তালিতের দিঘির পাড়ে দু’পক্ষেরই বাড়ির লোকজন ছিলেন। এলাকার মাতব্বররাও হাজির ছিলেন। দু’পক্ষের মধ্যে কথা চলার সময় হঠাৎই ওই গৃহবধূ নিজের ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে স্বামীর দিকে ছুটে যায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সে স্বামীর পেটে ছুরির কোপ বসিয়ে দেয়। রক্তাক্ত অবস্থায় শেখ রকি নামে ওই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ঘটনার আকস্মিকতায় সবাই অবাক হয়ে যান। এলাকার বাসিন্দারা দ্রুত ওই যুবককে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। চিকিৎসকদের দাবি, প্রচুর রক্তক্ষরণ হওয়ায় ওই যুবকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। দেওয়ান দিঘি থানার পুলিস অভিযুক্ত জোনাকি খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গৃহবধূর বাপের বাড়ি বীরভূমের লাভপুরে। ছ’মাস আগে তালিতের দিঘির পাড়ের বাসিন্দা ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। কয়েক মাস কাটতে না কাটতে তাঁদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হতে থাকে। গৃহবধূ দাবি করতে থাকে, তার স্বামীর সঙ্গে অন্য মহিলার সম্পর্ক রয়েছে। এই সন্দেহ থেকেই দাম্পত্য জীবনের ফাটল ধরে। অথচ দু’বছর ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দু’বছর আগে জোনাকি তার এক আত্মীয়ের চিকিৎসার জন্য নবাবহাটে একটি নার্সিংহোমে এসেছিল। সেখানেই তাদের দু’জনের মধ্যে পরিচয় হয়। পরে তা বিবাহ পর্যন্ত গড়ায়। বিয়ের পর তাদের মধ্যে অশান্তি শুরু হওয়ার পর বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এদিন তালিতে সালিশি সভা বসে। উভয়পক্ষের দাবি, তৃণমূলের পার্টি অফিসে এক আইএনটিটিইউসি নেতার উপস্থিতিতে সালিশির আয়োজন করা হয়। যুবকের পরিবার গৃহবধূকে সাত লক্ষ টাকা দেবে বলে এদিন সিদ্ধান্ত হয়। আলোচনার শেষ পর্বে পার্টি অফিসের ভেতরেই হামলা করা হয়। যদিও আইএনটিটিইউসি নেতা বুলবুল শেখ বলেন, পার্টি অফিসে কিছু হয়নি। ওরা ফাঁকা মাঠে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিল। ঘটনার সময় ওই এলাকায় উপস্থিত ছিলেন আকেদ আলি শেখ। তিনি বলেন, দু’পক্ষর বাড়ির লোকজনদের উপস্থিতিতে আলোচনা ভালোভা঩বেই এগচ্ছিল। ওই মহিলা স্বামীর থেকে কিছুটা দূরে বসেছিল। হঠাৎই ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে সে স্বামীর পেটে ঢুকিয়ে দেয়। প্রথমে বিষয়টি কেউ বুঝে উঠতে পারেননি। স্বামীর পেটে ছুরি মারার পরও ওই গৃহবধূর হেলদোল দেখা দেয়নি। এলাকার বাসিন্দারা তাকে আটকে রেখে পুলিসের হাতে তুলে দেন। আকেদ বলেন, ওই গৃহবধূর স্বামীর কয়েক মাস আগে দুর্ঘটনা হয়। তারপর থেকে তাদের মধ্যে দূরত্ব আরও বেড়ে যায়। ওই যুবক নার্সিংহোমে এক চিকিৎসকের গাড়ি চালান। নার্সিংহোমেই ওই মহিলার এক আত্মীয় দু’বছর আগে ভর্তি হয়েছিলেন। সেখান থেকেই তাদের পরিচয় হয়। কিন্তু পরিণাম যে এত সাংঘাতিক হবে, তা কেউ টের পায়নি। পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ