সংবাদদাতা, ঘাটাল: প্রলোভন দেখিয়ে লটারির টিকিট বিক্রি করতে গিয়ে গৃহকর্তাকে মারধরের অভিযোগ উঠল এক বিক্রেতার বিরুদ্ধে। পরে গ্রামবাসীরা তাকে হাতেনাতে ধরে বেঁধে রাখে এবং পুলিশের হাতে তুলে দেয়। রবিবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে দাসপুর থানার পূর্ব রবিদাসপুর গ্রামে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত ব্যক্তি অসংলগ্ন কথা বলার কারণে তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি মারুতি গাড়িতে করে চার ব্যক্তি প্রত্যন্ত এলাকায় লটারির টিকিট বিক্রি করতে বেরিয়েছিল। গাড়িটি একটি নিরাপদ জায়গায় দাঁড় করিয়ে রেখে তারা বিভিন্ন পাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে। ওই গ্রামের কাপাস পাড়ায় লটারি বিক্রি করতে গিয়ে এক বিক্রেতা দাবি করে, মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে টিকিট কাটলে একটি ‘স্ক্র্যাচ কার্ড’ দেওয়া হবে। কার্ডটি ঘষার পর যে পুরস্কার উঠবে, তৎক্ষণাৎ ক্রেতাকে তা দেওয়া হবে। পুরস্কারের তালিকায় ছিল ইনডাকশন কুকার, ২৪ ইঞ্চি এলইডি টিভি, মাইক্রোওভেন, স্মার্ট ফোন, দামি গ্যাস ওভেন, এসি সহ হরেক রকম জিনিস।
গ্রামের বাসিন্দা সনাতন কাপাসের অভিযোগ, তাঁর মেয়ে সুষমা কাপাস ২০০ টাকা দিয়ে একটি কুপন কাটে। স্ক্র্যাচ করার পর তাতে একটি ‘হোম থিয়েটার’ ওঠে। কিন্তু লটারি বিক্রেতা জানায়, সেটি বর্তমানে মজুত নেই। পরিবর্তে তাকে আরেকটি কুপন ঘষতে বলা হয়। দ্বিতীয় কার্ডটিতে ওঠে একটি টেবিল ফ্যান। অভিযোগ, টেবিল ফ্যানটি দেওয়ার বিনিময়ে ওই বিক্রেতা দু’হাজার টাকা দাবি করে। লটারিতে পুরস্কার জেতার পর কেন টাকা দিতে হবে, এই নিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। ওই সময় সনাতনবাবুর বাড়িতে তিনি ও তাঁর মেয়ে ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বচসা চলাকালীন ওই ফেরিওয়ালা টাকা না পেয়ে সনাতনবাবুকে মারধর শুরু করেন, এতে তিনি জখম হন। সুষমা তার বাবাকে ছাড়াতে গেলে তাকেও মারধর করা হয়। সনাতনবাবুদের চিৎকারে পড়শিরাও জড়ো হন। উত্তেজিত জনতা ওই লটারি বিক্রেতাকে ধরে চড়-থাপ্পড় মেরে একটি গাছে বেঁধে রাখে। পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়। এক সঙ্গীর ধরা পড়ার খবর পেয়েই এলাকা থেকে বাকি লটারি বিক্রেতারা গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয়। দাসপুর থানা এলাকায় এ ধরনের প্রতারণার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। পুলিশের পক্ষ থেকে মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, এই ধরনের ফেরিওয়ালা, অপরিচিত মানুষের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্ব রাখা উচিত। তাদের প্রলোভনে পা যেন না দেওয়া হয়।