সংবাদদাতা, সিউড়ি: এসআইআর আতঙ্কে জন্ম শংসাপত্র সংশোধনের এমনই হিড়িক পড়েছে যে, পৃথক দপ্তর খুলেও ভিড় সামাল দিতে পারছে না সিউড়ি পুরসভা। এসআইআর ঘোষণার পর ভিড় বেড়েছে চার থেকে পাঁচগুণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুজনের জায়গায় ১০ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি অশান্তি এড়াতে পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ার মিলে চারজনকে মোতায়েন করা হয়েছে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এসআইআর নিয়ে যখন চর্চা শুরু হয়েছিল। তখন থেকেই জন্ম শংসাপত্র সংশোধনের হিড়িক শুরু হয়েছিল। তাই গত সেপ্টেম্বর মাসে পুরসভার পক্ষ থেকে একটি পৃথক ভবনে পৃথক দপ্তর খোলা হয়। কিন্তু গত দু’ দিনে সেই চিত্র আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে। পুরসভার কর্মীরা জানান, আগে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন জন্ম শংসাপত্র সংগ্রহ করতে আসত। কিন্তু গত আগস্ট মাস থেকে পুরসভায় প্রতিদিন ২৫০ থেকে ৩০০ মানুষ জন্ম শংসাপত্র সংশোধনের জন্য আসতে শুরু করেছে। গত কয়েকদিনে পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েকদিনে অন্তত ৮০০ থেকে হাজার মানুষের ভিড় হচ্ছে পুরসভায়। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রতিদিন সকাল সাতটা থেকে পুরসভার সামনে মানুষের লাইন পড়ছে। যা রাত পর্যন্ত থাকছে। গত সোমবার সকাল আটটা থেকে পুরসভার সামনে লাইন পড়েছিল। সেই লাইন রাত আটটা পর্যন্ত ছিল। এক পুরকর্মীর কথায়, সোমবার রাত আটটা পর্যন্ত কাজ করতে হয়েছে। মঙ্গলবারও রাত হয়ে যাবে মনে হচ্ছে। পুর কর্তৃপক্ষের দাবি, ভিড় সামাল দিতে সোমবার সিউড়ি থানায় পুলিশ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। সেই মতো সিভিক ও পুলিশ মোতায়েনও করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর দিকে পুরসভায় গিয়ে দেখা যায়, যে ভবনে বার্থ সার্টিফিকেটের জন্য পৃথক দপ্তর করা হয়েছে সেখানে দোতলা থেকে শুরু একদম পুরসভার সামনে পর্যন্ত লম্বা লাইন পড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিউড়ির দুই বাসিন্দা জানান, আমার নামের বানান ভুল আছে। এখন এসআইআর নিয়ে যা চলছে, তাই সংশোধন করতে এসেছি। এই পরিস্থিতিতে কোনও ঝুঁকি নিতে পারছি না। যদি কোনও কাজে লেগে যায়।
পুরসভার চেয়ারম্যান উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন, গত কয়েকদিন ধরে প্রচুর মানুষ ভিড় করছেন। আমাদের ১০ জন কর্মী রাখতে হয়েছে ওখানে। এসআইআর আতঙ্কে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। -নিজস্ব চিত্র