Bartaman Logo
২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নেতাজির সম্মানে লং মার্চ, সাগর থেকে হেঁটে দার্জিলিং এলেন বৃদ্ধ

‘বুধবার ঘুম ভাঙল পাহাড়ি আকাশের মুখ ভার দেখে। বাদল ছেয়ে আছে। সকাল থেকেই বৃষ্টি। ঠান্ডা ভাব আছে বাতাসে।’ বুধবার দার্জিলিংয়ের হার্ট অব দ্য টাউন ম্যালে পৌঁছে নিজের কথা এভাবেই মেলে ধরলেন ৬৫ বছরের অতীন হালদার।

নেতাজির সম্মানে লং মার্চ, সাগর থেকে হেঁটে দার্জিলিং এলেন বৃদ্ধ
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিমল বন্দ্যোপাধ্যায়, বজবজ: ‘বুধবার ঘুম ভাঙল পাহাড়ি আকাশের মুখ ভার দেখে। বাদল ছেয়ে আছে। সকাল থেকেই বৃষ্টি। ঠান্ডা ভাব আছে বাতাসে।’ বুধবার দার্জিলিংয়ের হার্ট অব দ্য টাউন ম্যালে পৌঁছে নিজের কথা এভাবেই মেলে ধরলেন ৬৫ বছরের অতীন হালদার। তিনি সুভাষচন্দ্র বসুকে করা কটাক্ষের বিরুদ্ধে জনমত গঠন করতে রাজ্যের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত হাঁটা শুরু করেছিলেন। 

Advertisement

সুভাষচন্দ্র বসুর সংগ্রাম, আন্দোলন নিয়ে ভারতবর্ষের আলাদা আবেগ। সুভাষ বাঙালি বলে বাংলায় সে আবেগ মাত্রাছাড়া। সেই মাটিতে দাঁড়িয়ে এক সাংসদ যখন নেতাজিকে কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করেন তখন সমাজের সর্বস্তরে প্রতিবাদ হয়। সেরকমই একটি প্রতিবাদে সামিল ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধও।
তিনি পর্যটক। এবার সুভাষচন্দ্র বসুর নামে কুরুচিকর মন্তব্যের প্রতিবাদে সাগর থেকে সমতল ছুয়ে পাহাড়ি পথে হেঁটে পৌঁছলেন দার্জিলিং। বললেন, ‘দুপুরের পর এখানে বৃষ্টি একটু ধরতেই হোটেল থেকে বেরিয়ে পরি। হাঁটা শুরু করি। দেড় কিলোমিটার দূরে ম্যালে পা রেখেছি তিনটে নাগাদ। তারপর পিছনের রাস্তাটা ধরে পৌঁছই সুভাষচন্দ্র বসুর রাজনৈতিক গুরু দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বাসভবনে। সেখানে একটি খাটের উপর পাতা চাদরে রাখা দেশবন্ধুর প্রতিকৃতি। শুয়ে রয়েছেন। মুখে প্রশান্ত ভাব। এই খাটেই বিশ্রাম নিতেন তিনি। শ্রদ্ধার সঙ্গে তাঁর প্রতিকৃতিতে মালা দিয়ে মাথা নুইয়ে প্রণাম করলাম। এখানে বুধবার শেষ হল ৩১ দিনের পদযাত্রা। তবে ক্লান্ত শরীরে নতুন করে যেন বল ফিরে পেলাম। ধীর পায়ে ম্যালে গিয়ে দাঁড়ালাম। সুভাষ বসুর ছবি সামনে রেখে কেন সাগর থেকে এই পাহাড়ে এসেছিলাম তা নিয়ে বক্তব্য রাখলাম। অনেকে এগিয়ে এসে এমন প্রতিবাদের ঘটনাকে অভিনন্দন জানালেন।’ 
বজবজ নিবাসী অতীন হালদার ৩১ দিন আগে সাগরে স্নান করে কপিলমুনির মন্দিরে পুজো দিয়ে পদযাত্রা শুরু করেন। তাঁর কাঁধের পিছনে একটি ব্যাগের গায়ে লটকানো সুভাষ বসুর ছবি। বিজেপির কোচবিহারের এক সাংসদ সুভাষ বসুর নামে কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন। তা নিয়ে দেশজুড়ে ছি ছি পড়ে যায়। এরপর নেতাজি ভক্ত অতীনবাবু ঠিক করে ফেলেন এর প্রতিবাদে সমতল থেকে পাহাড়, দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে ঘুরে প্রতিবাদ জানাবেন। যাতে সমবেতভাবে মানুষ গর্জে ওঠে কুরুচিকর মন্তব্যকারীর বিরুদ্ধে। বললেন, ‘সফল হয়েছে প্রতিবাদ।’ -নিজস্ব চিত্র 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ