সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: প্রায় দু’বছরের বেশি সময় ধরে তালাবন্ধ রয়েছে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষদের আবাসন। সেটি বন্ধ থাকায় ক্ষোভ বাড়ছে শাসক দলের নেতাদের অন্দরেই। অনেকে আবার মজা করে বলছেন, পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের পর হয়তো তালা খুলে কর্মাধ্যক্ষদের আবাসন ব্যবহারের অনুমতি দেবে পুরুলিয়া জেলা পরিষদ।
পুরুলিয়া জেলা পরিষদের অফিস চত্বরেই রয়েছে সরকারি আবাসন। আবাসনে কর্মাধ্যক্ষদের জন্য একটি করে রুম বরাদ্দ থাকত। ২০২৩ সালে জেলা পরিষদ গঠনের পর কিছুদিন ওই রুমে অনেকেই থাকা শুরু করেছিলেন। কিন্তু, হঠাৎই ওই বহুতল সংস্কার করা হবে বলে রুমগুলি তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে এখনও সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। প্রসঙ্গত, পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতির জন্য রাঁচি রোড এলাকায় বিশাল জায়গাজুড়ে বাংলো রয়েছে। কর্মাধ্যক্ষদের জন্য জেলা পরিষদ চত্বরেই একটি করে রুম বরাদ্দ ছিল। কিন্তু, তাও বন্ধ থাকায় কর্মাধ্যক্ষদের অনেকেই প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
এবিষয়ে পুরুলিয়া জেলা পরিষদের বন ও ভূমি কর্মাধ্যক্ষ জয়মল ভট্টাচার্য বলেন, কর্মাধ্যক্ষ নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় দু’মাস মতো ওই রুমে থাকা শুরুও করেছিলাম। তারপর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রুমগুলি সহ গোটা ভবন সংস্কার করা হবে। তাই রুমগুলি তালাবন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকে বন্ধই রয়েছে। তিনি আরও বলেন, জেলা পরিষদের একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বলা হলেও কাজ হয়নি। পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষের পর হয়তো কাজ হবে। নারী ও শিশুকল্যাণ কর্মাধ্যক্ষ শিবানী মাহাত বলেন, বরাবাজার এলাকা থেকে প্রতিদিন পুরুলিয়া শহরে অফিসে আসি। কর্মাধ্যক্ষদের রুমটি থাকলে অনেক সুবিধা হতো। কিন্তু, সেগুলি তালাবন্ধই রয়েছে। সংস্কার হবে বলে শুনেছিলাম। কিন্তু, কবে হবে জানি না। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ সুমিতা সিংমল্ল বলেন, কর্মাধ্যক্ষদের ওই রেস্টরুম ভগ্নপ্রায়। সংস্কারের নামে তালাবন্ধ করা হয়েছে। কবে সংস্কার হবে কেউ জানেন না। তাছাড়া, চা-জলটুকুই পাওয়া যায় না, তো রেস্টরুম সংস্কারের আশা করব কীভাবে? তবে ওই রুম থাকলে খুব সুবিধা হতো। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ হংসেশ্বর মাহাত বলেন, রুমগুলি তালাবন্ধ থাকায় জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা কর্মাধ্যক্ষদের সমস্যা হয়, একথা সত্যি। আমি নিজেও প্রায় ৬০কিলোমিটার দূর থেকে প্রতিদিন অফিসে আসি। রুম থাকলে সুবিধা হতো। কখনও কাজ শেষ হতে বেশি রাত হলে সেখানে থাকা যেত। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ওই ভবনটি ভেঙে নতুন করে তৈরি করার পরিকল্পনা হয়েছিল। পরে দেখা যায়, শুধুমাত্র সংস্কার করলেই ব্যবহার করা যাবে। সেইমতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। জেলা পরিষদের একাধিক মিটিংয়ে ভবন সংস্কারের বিষয়ে আলোচনা হলেও এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি।
সভাধিপতি নিবেদিতা মাহাত বলেন, ওই ভবনের সংস্কার করা যাবে, নাকি ভেঙে ফেলতে হবে, সেবিষয়ে পূর্তদপ্তরকে খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পূর্তদপ্তর জানিয়েছে, ভবনটি সংস্কার করা সম্ভব। ভেঙে ফেলার প্রয়োজন নেই। তারপরই এবিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সংস্কারও করা হবে।