নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: নামে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। কিন্তু অভিযোগ, এই বহুতল হাসপাতালের একাধিক ওয়ার্ডে শৌচালয়ে নিয়মিত তালা ঝুলতে দেখা যায়। পরিস্রুত পানীয় জলের ন্যূনতম ব্যবস্থা নেই! এমনই একাধিক বিষয়ে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেরভূমিকা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
অভিযোগ, এই হাসপাতালের বহুতলে নয়া ভবনের একাধিক ওয়ার্ডে জলের জন্য সবাইকে অন্যপ্রান্তে ছুটতে হয়। জলের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী সহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। নিস্তার নেই হাসপাতাল কর্মীদেরও। তাঁদের দাবি, কর্তৃপক্ষকে বিষয়গুলি জানানো হলেও আজও সুরাহা হয়নি। হাসপাতালের সুপার ডা. প্রকাশচন্দ্র বাগ বলেন, শৌচালয়গুলি নির্মাণের সময়ে কিছু পদ্ধতিগত ভুল ছিল। সেই কারণে নোংরা জল বাইরে বের হওয়ার পরিবর্তে তা ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই একাধিক শৌচালয় বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত সমাধান হবে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। পানীয় জলের সমস্যাও মিটবে।
জেলার সদর শহর সিউড়ির এই হাসপাতালে রোজ প্রায় হাজার রোগীর আনাগোনা চলে। পড়শি রাজ্য ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দারাও চিকিৎসার জন্য আসেন। কিন্তু দূরদূরান্ত থেকে পরিষেবা পেতে সিউড়ি এসে তাঁদের একাধিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সুপার স্পেশালিটি ব্লকের প্রতি ওয়ার্ডে ১০০ থেকে ১২০টিশয্যা রয়েছে। যদিও রোগী ভর্তির সংখ্যা শয্যার সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে একটি ওয়ার্ডে তিনশোর বেশি লোকের আনাগোনা হয়। যদিও তাঁদের জন্য শৌচালয়ের পরিষেবা অপর্যাপ্ত। জানা গিয়েছে, সুপার স্পেশালিটির ওয়ার্ডগুলিতে কমপক্ষে ১০টি করে শৌচালয় রয়েছে। এছাড়াও বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন রোগীদের জন্য বিশেষ শৌচালয়ও রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ শৌচালয়ের গেটেই তালা ঝোলে। তবে যেগুলি খোলা থাকে তা আবার ব্যবহারের অযোগ্য বলে অভিযোগ।
রোগী সহ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, শৌচালয়গুলি যথেষ্ট নোংরা। দুর্গন্ধে ভেতরে ঢোকা দায় । হাসপাতালের কর্মীরাও একই অভিযোগ করছেন। এক রোগীর আত্মীয় শেখ ইমামুদ্দিন বলেন, শৌচালয় যথেষ্ট নোংরা। নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। শেখ নুর আলি বলেন, দুর্গন্ধে শৌচালয়ে ঢোকা যায় না। কিন্তু রোগীকে ওই শৌচালয় ব্যবহার করতেই হয়। বিষয়গুলি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দেখতে হবে।