Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পশ্চিম বর্ধমান, ফড়ে রাজ ভাঙতে চাষিদের কাছে গিয়ে ধান কেনায় জোর, রেকর্ড উৎপাদন, ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালো সরকার

প্রবাদ বাক্যই রয়েছে , ‘কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ’

পশ্চিম বর্ধমান, ফড়ে রাজ ভাঙতে চাষিদের কাছে গিয়ে ধান কেনায় জোর, রেকর্ড উৎপাদন, ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়ালো সরকার
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: প্রবাদ বাক্যই রয়েছে , ‘কারও পৌষ মাস তো কারও সর্বনাশ’। ধান উৎপাদনের ক্ষেত্রে পশ্চিম বর্ধমান জেলার জন্য এই কথা প্রযোজ্য। অতি বৃষ্টিতে যেখানে বিভিন্ন জেলার নিচু জমি গুলিরে ধান চাষ ক্ষতি হয়েছে। বহু জায়গায় কীট পতঙ্গের উৎপাত বাড়ায় ধান চাষে ক্ষতি হয়েছে। রুক্ষ জেলা পশ্চিম বর্ধমানে অতি বৃষ্টির ফলে ধান উৎপাদন বেড়েছে। একদিকে যেমন ধান চাষের এরিয়া বেড়েছে তেমনি ফলন ভালো হয়েছে। যারজেরে শিল্পাঞ্চলে দিয়ে ঘেরা পশ্চিম বর্ধমান জেলাতেও ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার। লক্ষ্য পূরণ, চাষিদের কাছে গিয়ে ধান কেনার উপর দেওয়া হচ্ছে। সোমবার বিষয়টি নিয়ে জেলাশাসক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন। 

Advertisement

জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, ধান কেনার টার্গেট প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ধান উৎপাদন ভালো হওয়ায় টার্গেট পূরণের বিষয়ে আশাবাদী। চাষিদের কাছে গিয়ে ধান সংগ্রহে জোর দেওয়া হচ্ছে। ধান বিক্রির জন্য চাষিদের যে রেজিস্ট্রেশন  করতে হয় তার উপর জোর দিতে বলা হচ্ছে। খোলা বাজারে অনেক কম দামে ধান বিক্রি হচ্ছে। আমরা চাই চাষিরা সরকারি ভাবে ধান বিক্রি করে বাড়তি উপার্জন করুক।
আটটি ব্লক ও দুই মেগা সিটি নিয়ে পশ্চিম বর্ধমান জেলা। জেলায় একেবারে কৃষি নির্ভর ব্লক নেই বললেই চলে। কৃষিকার্য বেশি মাত্রায় হয় কাঁকসা ও দুর্গাপুর ফরিদপুর ব্লকে। কিছু ধান হয় বারাবনি, সালানপুর, রানিগঞ্জ ও কুলটিতেও। ধান উপাদাদনে এই জেলা একেবারে পিছনের দিকেই থাকে। প্রধান কারণ উচু মালভূমির নিম্নভাগের ভূমিরুপ পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের অভাব। এবার রাজ্য জুড়েই ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। যারফলে ধান চাষ বেড়েছে জেলায়। সেই পরিসংখ্যান পেতেই পশ্চিম বর্ধমান জেলাকে ৭৪ হাজার ২০০ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা দিয়েছে রাজ্য সরকার। ধান ক্রয় করা হবে জেলার থাকা ন’টি স্থায়ী ধান ক্রয় কেন্দ্র বা সিপিসিতে। এছাড়াও ২৮টি সংস্থাকে যুক্ত করা হয়েছে যারা মোবাইল সিপিসি করে গ্রামে পাড়ায় গিয়ে চাষিদের কাছ থেকে সরাসরি ধান সংগ্রহ করা সম্ভব। জেলশাসক জানিয়েছেন, এদের মধ্যে আটটি এসএইচসি, ১৪টি কো অপারেটিভ ও ছ’টি এফপিও গ্রুপ। তারাই এলাকায় গিয়ে গিয়ে ধান সংগ্রহ শুরু করেছে বলে জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। 
কেন এই বিষয়ে  বাড়তি উদ্যোগ? অন্যান্য ঩জেলার পাশাপাশি এই জেলাতেও ধান কোর ফড়ে রাজ রয়েছে। তাঁরা বৃহৎ ধান কাটা মেশিন নিয়ে চাষির মাঠে হাজির হচ্ছে। মাঠের ভেজা ধানই কেটে তারা বস্তাবন্দি করে নগর টাকা দিয়ে দিচ্ছে। এরফলে সরকারি ঘরে ধান আসছে না। অনেক সময়ে রাজ্য সরকারের দেওয়া লক্ষ্যপরণও হচ্ছে না। তাই এবার চাষিদের গ্রামে পাড়ায় গিয়ে ধান কেননোর উপর জেরা দেওয়া হয়েছে। তাই এলাকায় গিয়ে ধান সংগ্রহকারি সংখ্যার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এই কারণে চারটি মোবাইল সিপিসি বাড়ানো হয়েছে। প্রশাসনের আশা বাজারে ধানের দাম কুইন্টাল প্রতি ১৭০০ টাকা চলছে। অন্যদিকে রাজ্য সরকার চাষিদের ২ হাজার ৩৭৯ টাকা প্রতি কুইন্টালে ধান কেনা শুরু করেছে। সিপিসিতে নিয়ে এলে অতিরিক্ত ২০ টাকা দেওয়া হবে। গত বছর ধান সংগ্রহ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ছিল রাইস মিল মালিকদের ব্যাঙ্ক গ্যারেন্টি শেষ হয়ে যাওয়ায়। যাতে চাষিরা হয়রানি হন। এদিন বৈঠক থেকে জেলাশাসক রাইস মিল মালিকদের বিষয়টি নিয়ে সতর্ক করেন।  -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ