সংবাদদাতা, বেলদা: ঘড়ির কাঁটায় রাত সাড়ে দশটা। মুমূর্ষু বাবাকে বাঁচাতে চিকিৎসকের লেখা জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন খুঁজতে হন্যে হয়ে ঘুরছে ছেলে। কিন্তু হাসপাতালের বাইরে সার দিয়ে থাকা ওষুধের দোকানগুলির সবকটিতেই ঝুলছে তালা! দরজা ধাক্কা দিয়ে, ডাকাডাকি করেও সাড়া মেলেনি। অগত্যা চরম উৎকণ্ঠা ও অসহায়তাকে সঙ্গী করেই হাসপাতালে ফিরে যেতে হয় ওই যুবককে। গত রবিবার রাতে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল চত্বরে চাকলার বাসিন্দা খোকন দাসের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতাই এখন বাস্তব ছবি। সুপার স্পেশালিটি তকমা থাকলেও রাতে ওষুধের প্রয়োজনে রোগীর পরিজনদের হাহাকার থামছে না বেলদায়।
হাসপাতাল সংলগ্ন প্রায় ন’টি ওষুধের দোকান রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলা খোলা থাকলেও রাত বাড়লেই নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে সব দোকান বন্ধ করে দেন মালিকরা। ফলে জরুরি প্রয়োজনে ওষুধ না পেয়ে চরম বিপাকে পড়েন দূরদূরান্ত থেকে আসা রোগীর আত্মীয়রা। মাসদুয়েক আগেও একই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছিল এলাকায়। কিন্তু পরিস্থিতি বিন্দুমাত্র বদলায়নি। খোকনবাবুর কথায়, বাবার জন্য জরুরি ইঞ্জেকশন প্রয়োজন ছিল। একটা দোকানও খোলা পেলাম না। চোখের সামনে রোগীকে কষ্ট পেতে দেখেও কিছু করতে না পারার এই যন্ত্রণা কাউকে বোঝানো যাবে না।
কিন্তু কেন এই অচলাবস্থা? মানবিকতার খাতিরে রাতের বেলা দোকান খোলা রাখা কি সম্ভব নয়? তাছাড়া ওষুধ তো অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা। ওষুধ বিক্রেতাদের একাংশের দাবি, রাতে দোকান খোলা রাখার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা নিরাপত্তা। এক দোকান মালিকের কথায়, রাতে নিরাপত্তার বড্ড অভাব। তাছাড়া অনেকেই প্রেসক্রিপশন ছাড়া এমন কিছু ওষুধ চান, যা দেওয়া আইনত নিষিদ্ধ। না দিলেই ঝামেলা বাড়ে। এছাড়া রাতে দোকান খোলার সরকারি অনুমতি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে বলে দাবি তাঁদের।
অন্যদিকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক সোমনাথ মণ্ডলের দাবি, হাসপাতালে সব ধরনের ওষুধই মজুত থাকে। তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। গ্যাস বা পেটের গন্ডগোলের মতো সাধারণ ওষুধও অনেক সময় পাওয়া যায় না। যা বাইরে থেকে কেনা ছাড়া উপায় থাকে না। বেঙ্গল কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সুবর্ণরেখা জোনের সভাপতি অশোক গুপ্তা জানান, অতীতে রোটেশন পদ্ধতিতে বা পালা করে রাতে দোকান খোলা রাখার নিয়ম চালু ছিল, যা বর্তমানে মানা হচ্ছে না। আগামী রবিবার ব্যবসায়ীদের বৈঠক হবে। সেখানে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে ও ওষুধ ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে দ্রুত সমাধানের রাস্তা খোঁজা হবে।