নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: দীর্ঘ সময় উপেক্ষিত থাকার পর অবশেষে রেল কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসেছিল। সিউড়ির হাটজনবাজার রেলওয়ে ওভারব্রিজের কাজে ইতি টানতে শুরু হয়েছিল গার্ডার বসানোর কাজ। রীতিমতো ব্লক নিয়ে কাজ শুরু হলেও পরপর দু’টি গার্ডার হেলে পড়তেই সেই কাজ থমকে যায়। ঘটনায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিরা রেলের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে ধরেছিলেন। যদিও কর্তৃপক্ষ সে সময় দাবি করেছিল, যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে কাজ থমকে ছিল। ফলত রেল কর্তৃপক্ষ আমজনতাকে আশার আলো দেখালেও দূর্ভোগ মেটাতে ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ফের একবার ওই ওভারব্রিজ তৈরির কাজ শেষ করার দাবি জোরালো হতে শুরু করেছে। অন্যদিকে, রেলের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, জুন মাসে নতুন করে ব্লক নিয়ে গার্ডার বসানোর কাজ করা হতে পারে। তবে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষ আশ্বস্ত হতে পারছেন না। অন্য দিকে, জনপ্রতিনিদের দাবি এবার অন্তত রেল কর্তৃপক্ষকে আরও সচেতনতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। সিউড়ির বিধায়ক বিকাশ রায়চৌধুরী বলেন, আমরা চাই দ্রুত ওই ওভারব্রিজ চালু হোক। সেক্ষেত্রে খুব তাড়াতাড়ি রেলের তরফে কাজ শুরু করা প্রয়োজন। তবে এবার কাজ শুরুর ক্ষেত্রে আরও বেশি করে সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। একথা আগেও বলেছিলাম। শুধুমাত্র রেলের গাফিলতির জেরে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। সিউড়ি পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝ বরাবর রেললাইন রয়েছে। ওই রেলপথ ধরে দিনের বিভিন্ন সময় হাওড়া, রামপুরাহাট, সাঁইথিয়া, অণ্ডাল, বর্ধমানের ট্রেন চলাচল করে। এছাড়াও একাধিক পণ্যবাহী ট্রেনও ওই রেলপথ ধরে চলে। গুরুত্বপূর্ণ রেলপথের উপর স্টেশন লাগোয়া এলাকায় রেলগেট রয়েছে। সড়ক পথে সিউড়ি হয়ে যাতায়াতের জন্য ওই রেলগেটের গুরুত্ব যথেষ্টই। ফলত ওই রেলগেটের পরিবর্তে সেখানেও ভারব্রিজ অর্থাৎ উড়ালপুল গড়ে তোলার দাবি উঠেছিল একসময়। সেই মোতাবেক রেলের তরফে ২০১৬-১৭ সালে ওভারব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। যদিও মাঝপথে সেই কাজ থমকে যায়। শুরু হয় টালবাহানা। অবশেষে ২০২৪ সালের শেষ দিকে ২২ নম্বর রেলগেটের পরিবর্তে ওভারব্রিজ তৈরির কাজে গতি আসে। রেলপথের উপরের অংশে গার্ডার বসানোর জন্য ১৩ এপ্রিল রেলের তরফে ব্লক নেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে, জেলা পুলিস ও প্রশাসনের তরফে হাটজন বাজার রেলগেট হয়ে যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছিল। শুরু হয়েছিল গার্ডার বসানোর কাজও। যদিও রেললাইনের উপর দিয়ে ওভার ব্রিজ সংযুক্ত করার জন্য প্রথম দু’টি গার্ডার বসানোর পরই বিপত্তি বাধে। আচমকাই গার্ডার দু’টি হেলে পড়ে। সেইসঙ্গে ওভারব্রিজের একপ্রান্তের একটি পিলারের কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপরই কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতও করা হয়েছে। এবার রেল কর্তৃপক্ষ চাইছে, গার্ডার বসানোর কাজে ইতি টানতে। এবিষয়ে রেলের এক আধিকারিক বলেন, জুনের প্রথম সপ্তাহে গার্ডার বসানোর কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এক্ষেত্রে নতুন করে ব্লক নেওয়া হবে। অন্য দিকে, ওই কাজে স্থানীয় প্রশাসন রেলকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। হাটজন বাজার রেলওয়ে ওভারব্রিজ প্রসঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালক সন্দীপ রুজ বলেন, ওভারব্রিজ দ্রুত চালু করা প্রয়োজন। রেলগেট বন্ধ থাকলে রোগীদের নিয়ে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যথেষ্ট সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। গত শনিবার রাতেই আহমদপুর থেকে সিউড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে যাওয়ার পথে প্রায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। রেলের উচিত যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করে দ্রুত কাজ শেষ করা।



