সংবাদদাতা, কাটোয়া : বাইক চালিয়ে গৃহস্থালী জিনিসপত্র বিক্রি করতে এসে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন যুবতীকে পাচারের চেষ্টার অভিযোগ। গুসকরা শহরে নদীয়া জেলার হকারকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷ শনিবার রাতে ওই হকারের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়৷ ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
নদীয়া জেলার পলাশি এলাকার বাসিন্দা সেলিম শেখকে পুলিশ রাতেই গ্রেপ্তার করে৷ তার মোবাইলে ওই যুবতীর একাধিক ছবি পাওয়া গিয়েছে৷ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সেলিম এদিন গুসকরা শহরে ঘুরে ঘুরে গৃহস্থালী জিনিসপত্র বিক্রি করছিল৷ গুসকরা শহরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সেলিম যখন যাচ্ছিল৷ তার ঠিক পিছনেই ওই যুবতী যাচ্ছিল৷ হকারকে স্থানীয় বাসিন্দারা আটক করে ফেলেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কথাবার্তায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে। এরপর স্থানীয়রা চড় থাপ্পর দিয়ে তাঁকে গুসকরা ফাঁড়ির পুলিশের হাতে তুলে দেন। স্থানীয় কয়েকজনের প্রথমে বিষয়টা নজরে পড়ে৷ সেলিম সেখের পিছু পিছু যাচ্ছে ওই পাড়ার বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ওই যুবতী। দেখার পর সন্দেহ হয়। কয়েকজন যুবক ছুটে গিয়ে পিছু নেয়। হকারকে আটকানো হয়। তখন যুবতীকে জিজ্ঞাসা করলে সে জানায় সেলিম তাঁকে ডেকে নিয়ে যাচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে সেলিম সেখকে আটকে দেওয়া হয়। পাড়ার আরও কিছু পুরুষ মহিলা জড়ো হয়ে যান। তাঁরা চেপে ধরেন ওই অপরিচিত হকারকে। অভিযোগ, সেলিম ওই যুবতীকে পাচার করার উদ্দ্যেশেই নিয়ে যাচ্ছিল।
এদিকে সেলিম সেসময় দাবি করে তিনি নাকি ব্যবসার পাশাপাশি ঘটকালি করেন। ওই যুবতীর বিয়ের সমন্ধ করার জন্যই তাঁর সঙ্গে কথা বলছিল। আবার কখনও বলেন যুবতী নিজেই তাঁর পিছু নিয়েছিল। তাঁর মুখ থেকে এই ধরনের অসংলগ্ন কথা শোনার পরেই স্থানীয়রা আটকে রাখেন সেলিম সেখকে। উত্তেজিত লোকজন চড় থাপ্পর শুরু করে। উত্তেজনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এরপর অভিযুক্তকে আটক করে নিয়ে আসা হয়। রাতে যুবতীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করলে গ্রেপ্তার করা হয় সেলিম সেখকে। বাসিন্দাদের দাবি, পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হোক৷