Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান শহরে পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলীদের দাপট, ত্রস্ত বাসিন্দারা

পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলীদের দাপট শুরু হয়েছে বর্ধমান শহরে। কোথাও ডান্সবার নিজের দখলে রাখার জন্য লড়াই চলছে।

বর্ধমান শহরে পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলীদের দাপট, ত্রস্ত বাসিন্দারা
  • ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পাড়ায় পাড়ায় বাহুবলীদের দাপট শুরু হয়েছে বর্ধমান শহরে। কোথাও ডান্সবার নিজের দখলে রাখার জন্য লড়াই চলছে। আবার কোথাও বেহুলা নদী ভরাট করে জবরদখলকারীদের বসানোর প্রতিযোগিতা চলছে। কেউ কেউ আবার নিজের ক্ষমতা বুঝে জনপ্রতিনিধির হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। হুঁশ ফেরার পর আবার সে নিজের ভুল স্বীকার করছে। স্থানীয়রা বলেন, রসিকপুর, সরাইটিকর ও বর্ধমান-১ ব্লকের আরও কয়েকটি জায়গায় বাহুবলীরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। প্রভাবশালীদের একাংশের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকার কারণেই তারা বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ।

Advertisement

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, কয়েকদিন আগে দুই বাহুবলী গোষ্ঠী নিজেদের ক্ষমতা জাহির করার জন্য ময়দানে নামে। দু’পক্ষ লোকজন জমায়েত করে। এলাকায় কে প্রভাব ধরে রাখবে, তা নিয়েই লড়াই চলছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। রসিকপুরের বাহুবলীদের নজর একটি ডান্সবারে। গভীর রাত পর্যন্ত এই বারে সুরাপ্রেমীদের ভিড় উপচে পড়ে। বারের উপর কর্তৃত্ব বজায় রেখে রাতারাতি এক বাহুবলী ফুলেফেঁপে উঠেছে। এখন অন্য আরেক বাহুবলী প্রভাব খাটাতে চাইছে। কয়েকদিন আগে এখানেও সংঘর্ষ বাধে। স্থানীয়দের দাবি, বর্ধমান শহরে এখন বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা উড়ছে। সরকারি জায়গা দখল করে কাউকে বসাতে পারলেই মোটা টাকা পাওয়া যায়। বাহুবলীদের দাপটে বেহুলা নদী এখন খালে পরিণত হয়েছে। এছাড়া রয়েছে অবৈধ নির্মাণ। পুরসভার অনুমতি না নিয়ে বিল্ডিং তৈরি করে অনেকেই মোটা টাকা ফায়দা তুলছে। এলাকায় প্রভাব যার যত বেশি, তার পকেট তত ভারী হয়। কয়েকদিন আগে একটি অনুষ্ঠানে বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশ সরকার আক্ষেপ করে বলেন, আপনারা পুকুর ভরাট করবেন না। শহরে পুকুর বাঁচিয়ে রাখতে না পারলে বিপদ।
বিজেপি নেতা মৃত্যুজ্ঞয় চন্দ্র বলেন, প্রত্যেক বাহুবলীর মাথার উপর তৃণমূলের কোনও না কোনও নেতার হাত রয়েছে। সেই কারণেই শহরে অরাজকতা চলছে। ওদের নেতারাই প্রকাশ্যে তোলাবাজির অভিযোগ করছে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, আমাদের দল কোনও অন্যায় কাজকে সমর্থন করে না। যারা অসামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু শহর নয়, বর্ধমান-১ ব্লকের কয়েকটি এলাকায় এখন বাহুবলীদের রাজত্ব চলছে। তাদের তাণ্ডবে এলাকার বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। প্রকাশ্যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কারও নেই। তাঁদের দাবি, বাহুবলীদের হটিয়ে শুদ্ধিকরণ করা দরকার। তা না হলে আগামী দিনে পুরো শহরটাই বাহুবলীদের দখলে চলে যাবে। তখন আর কিছু করার থাকবে না।  পুলিশের অবশ্য দাবি, অভিযোগ পাওয়া গেলেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অনেককেই গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ