সংবাদদাতা, কাঁথি: রামনগরের বালিসাইয়ের বড় রাঙ্কুয়া গ্রামীণ হাসপাতালে রোগীকে খেতে দেওয়া তরকারিতে টিকটিকি মেলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। শুক্রবার রাতে এক মহিলা রোগী খাবার খাওয়ার আগে তরকারির পাত্রে টিকটিকি দেখতে পান। তবে কখন টিকটিকি পড়েছে, তা পরিষ্কার নয়। এই ঘটনায় ওই রোগী কিংবা কেউই অসুস্থ হননি। তবে, ঘটনার জেরে অন্যান্য রোগীদের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা হাসপাতাল থেকে দেওয়া খাবার খেতে অনীহা প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি, এবিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, খাবার তৈরির সময় ওই টিকটিকি পড়েনি। রোগীকে খাবার দেওয়ার আগের মুহূর্তে কোনওভাবে দেওয়াল থেকে তরকারির পাত্রে টিকটিকি পড়তে পারে। সেটি আগে পড়লে যাঁরা সেই তরকারি খেয়েছেন, তাঁরা হয়তো সকলেই অসুস্থ হয়ে পড়তেন। নন্দীগ্রাম জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, খাদ্যে বিষক্রিয়াজনিত কারণে অসুস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন রামনগরের বিশ্বনাথপুরের বাসিন্দা পূর্ণিমা হাজরাবেরা। রাত ৮টা নাগাদ তাঁকে ভাত ও সব্জির তরকারি দিয়ে যাওয়া হয়। তিনি খেতে গিয়ে দেখেন, আলু, কুমড়ো ও সয়াবিন দিয়ে তৈরি তরকারিতে একটি আস্ত টিকটিকি ভাসছে। সেটির গায়ের চামড়া পুরো সিদ্ধ হয়ে গিয়েছে। তখন তিনি কর্তব্যরত নার্সদের বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে রান্নার দায়িত্বে থাকা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারাও আসেন। তখন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। পূর্ণিমাদেবীর দাবি, তরকারির পাত্র থেকে টিকটিকিটি তুলে ফেলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি নার্সরা তাঁকে বলেন, তরকারিতে যে টিকটিকি পাওয়া গিয়েছে, তা কাউকে বলার দরকার নেই। তাঁকে মাছের তরকারি এনে দেওয়ার কথা বলা হয়। তিনি তা খেতে অস্বীকার করেন। কিন্তু, আশপাশের রোগীরা ও পরিজনরা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়। তারপরই তৎপরতা শুরু হয়। পূর্ণিমাদেবী বলেন, আমি খাবারে টিকটিকি দেখতে পেলাম। কিন্তু, এরপর হয়তো এরকম ঘটনা আবারও ঘটবে। তখন কেউ দেখতেই পাবে না। তখন বিপদ বাড়বে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সতর্ক হওয়া উচিত বলে মনে করি।
সেইসময় ডিউটিতে ছিলেন চিকিৎসক শ্রীবাস সরকার। তিনি বলেন, বিষয়টি আমার কানে এসেছে। তবে এনিয়ে আমার কাছে কেউ কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। বিষয়টি আমি বিএমওএইচকে জানিয়েছি। নন্দীগ্রাম জেলার সিএমওএইচ অসিতকুমার দেওয়ান বলেন, বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। আমরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে একটি রিপোর্ট চেয়েছি। রিপোর্টের ভিত্তিতে পদক্ষেপ করা হবে। যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা না ঘটে, রান্নার দায়িত্বে থাকা গোষ্ঠীর মহিলাদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও সজাগ থাকার কথা বলেছি। রোগী ও রোগীর পরিজনদের প্রতি অনুরোধ, এনিয়ে আতঙ্কিত হবেন না।