রাজদীপ গোস্বামী, কেশপুর: কেশপুর থেকেই বিজেপির শেষের শুরু হবে। মঙ্গলবার কেশপুরের মাটিতে জনসমুদ্রের মাঝে এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেশপুরে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ‘বাম আমলে বলেছিলাম, এই কেশপুর হবে সিপিএমের শেষপুর। এখন আবার বলছি, বিজেপির শেষও কেশপুর থেকেই হবে।’ একসময়ের সিপিএমের হার্মাদরাই এখন পদ্ম শিবিরে যোগ দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীকে একবার দেখার জন্য এদিন দুপুর থেকেই কেশপুরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ভিড় জমতে শুরু করে। আর মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় পৌঁছনোর পরই তৃণমূল কর্মীসমর্থকরা আবেগে ভেসে যান।
এদিন মানুষের উৎসাহ দেখে রাস্তার দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমি কেশপুরের মাটিতে আগে অনেকবার এসেছি। আপনাদের এখানে জামশেদ ভবনের নামে সীমাহীন অত্যাচার হয়েছে। সেই লোকগুলোই এখন বিজেপি হয়েছে। বাম আমলে তাদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে আমি কথা বলেছিলাম। এখনও আপনাদের গায়ে হাত পড়লে আমরা কাউকে ছেড়ে কথা বলব না। ভিনরাজ্যে নির্যাতিত বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদেরও পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, যাঁরা অত্যাচারিত হয়ে বাড়ি ফিরে আসছেন, সেই পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য পোর্টাল রয়েছে। ‘আমাদের সাহায্য করা হোক’ বলে আবেদন করুন। আপনাদের কাছে বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। বাংলাকে ভালোবাসুন। বাংলায় থাকুন। বাইরের রাজ্যে গিয়ে জীবন নষ্ট করার কোনও প্রয়োজন নেই।
একসময় কেশপুরকে লালদুর্গ বলা হতো। সেখানে গমগম করত সিপিএমের পার্টি অফিস। পঞ্চায়েতগুলি তো দূরের কথা, পঞ্চায়েত সমিতিও বিশেষ কাজ করত না। ফলে মানুষের মনে ভুরি ভুরি অভিযোগ থাকলেও তা জানানোর উপায় ছিল না। কারণ অভিযোগ করলে জুটত মার। বহু মানুষকে ঘরছাড়া হতে হতো। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে প্রথম কেশপুরের মাটিতে গণ আন্দোলন শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর নেতৃত্বেই মহম্মদ রফিক সহ তৃণমূলের কেশপুরের প্রথম সারির নেতারা ময়দানে নামেন। সেই আন্দোলনের ফলেই লাল বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়। স্থানীয়রা জানান, রাজ্যে পালাবদলের পর কেশপুরের পরিস্থিতি একেবারে বদলে যায়। এলাকায় একের পর এক উন্নয়নমূলক কাজ হয়েছে। মানুষ নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। ফলে কেশপুরে তৃণমূলের সংগঠন মজবুত হয়েছে। কেশপুরের ব্লক তৃণমূল সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজার নেতৃত্বে শাসকদলের সংগঠন ঢেলে সাজানো হয়েছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী গাড়িতে বসেই জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিকের সঙ্গে কথা বলেন। রফিক সাহেব বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেশপুরের মানুষকে স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাঁর জন্যই কেশপুরের মানুষ শান্তিতে রয়েছে। এখন সিপিএমের মতো বিজেপিও কেশপুরকে উত্তপ্ত করতে চাইছে। কেশপুরের মানুষ সিপিএমকে তাড়িয়েছে, তাঁরা বিজেপিকেও তাড়াবে। মুখ্যমন্ত্রীকে বলেছি, জেলা পরিষদ ভালো কাজ করছে। আমরা আরও এগিয়ে যাব। ঘাসফুলের ব্লক সভাপতি প্রদ্যুৎ পাঁজা বলেন, মানুষের পাশে কীভাবে থাকতে হয়, তা আমাদের জননেত্রীই শিখিয়েছেন। কেশপুরের মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজে মুগ্ধ। কারণ মানুষ দেখেছে, সিপিএমের সময় কেশপুর কেমন ছিল, আর এখন কেমন হয়েছে।