সংবাদদাতা, কাঁথি: দীঘা-তমলুক রেলপথে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন রামনগর। কিন্তু স্টেশনের সার্বিক পরিষেবা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। স্টেশন এলাকায় আলো, শৌচালয়, পানীয় জল, রাস্তা সহ অন্যান্য বহু সমস্যা রয়েছে। যাত্রীরা অবিলম্বে এই স্টেশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের দাবি জানিয়েছেন। রেলের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ রয়েছে বাসিন্দাদের। রামনগরের স্টেশন ম্যানেজার প্রণব হালদার বলেন, পরিকাঠামোগত সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাদলপুর ও ঠিকরা স্টেশনের মাঝেই রয়েছে রামনগর রেলস্টেশন। স্টেশন দিয়ে রামনগর শহর সহ পার্শ্ববর্তী রামনগর-১ ও ২ ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকার মানুষ যাতায়াত করেন। এগরার পানিপারুল, কুদি এলাকা সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষজনও রামনগর স্টেশন থেকেই ট্রেন ধরে অন্যান্য এলাকায় যান। শঙ্করপুর, তাজপুর ও মন্দারমণি পর্যটন কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য পর্যটকরা এই রামনগর স্টেশনেই নামেন। সবদিক দিয়ে এই স্টেশন গুরুত্বপূর্ণ। সারাদিন বহু মানুষ রামনগর স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু এখানে কোনও সাপ্তাহিক এক্সপ্রেস ট্রেন দাঁড়ায় না। এমনিতেই কাণ্ডারি ও তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস ঠিক সময়ে চলে না। রামনগর থেকে হলদিয়া যাওয়ার একটি ঢালাই রাস্তা স্টেশনের দিকে গিয়েছে। সেই রাস্তাটি রেলের। কিন্তু সেটার অবস্থাও ভালো নয়। স্টেশন চত্বরেও অনেকটা অংশ আগাছায় ঢাকা। স্টাফ কোয়ার্টার থেকে স্টেশন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি বাতিস্তম্ভ রয়েছে। কিন্তু সেই পথবাতির অনেকগুলি নষ্ট। আবার স্টেশন চত্বরে যে বাতিস্তম্ভগুলি রয়েছে তারও সবগুলি জ্বলে না। এতে রাতের বেলা যে সব যাত্রী ট্রেন থেকে নামেন, তাঁদের একপ্রকার অন্ধকারেই যাতায়াত করতে হয়। এতে দুর্ঘটনা বা ছিনতাইয়ের আশঙ্কা থেকে যায়। স্টেশনে পানীয় জলের ট্যাপ থাকলেও তা থেকে ঘোলা জল পড়ে। সেই জল যাত্রীরা কেউ ব্যবহার করেন না। রামনগর স্টেশনে দু’টি শৌচালয় রয়েছে। একটি শৌচালয় শুধুমাত্র কর্মীরা ব্যবহার করেন। আরএকটি শৌচালয় পুরুষ ও মহিলা যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য রয়েছে। কিন্তু সেটা পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে সমস্যা হয় বেশি।
রামনগরের বাসিন্দা সুদীপ দাস বলেন, কাঁথি ও দীঘার মাঝে যে কয়েকটি স্টেশন রয়েছে, তার মধ্যে অন্যতম রামনগর স্টেশন। এই স্টেশনের বেশকিছু পরিকাঠামোর উন্নয়ন দরকার। এই স্টেশনে যাত্রীদের পরিবহণের সুবিধার্থে রামনগর পরিবহণ শ্রমিক কল্যাণ সমিতি গড়ে উঠেছে। সমিতির অধীনে ৬০টি মোটরচালিত ভ্যান, অটো ও প্রাইভেট কার চলাচল করে। স্থানীয় তালগাছাড়ির বাসিন্দা তথা ওই পরিবহণ সমিতির সম্পাদক অমিত সার বলেন, রামনগর স্টেশনে পরিকাঠামোগত সমস্যাগুলি সমাধানের দাবি নিয়ে রেল মন্ত্রকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
রামনগর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নিতাইচরণ সার বলেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন নিয়ে রেল মন্ত্রকের কোনও মাথাব্যথা নেই। তারা সমস্যাগুলি সম্পর্কে নীরব।