সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: স্ত্রীর সঙ্গে প্রতিবেশী কিশোরের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। এমনই সন্দেহে প্রতিবেশী কিশোরের উপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয়েছিল রঘুনাথপুর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁকড়া পাড়ার যুবক মন্টু বাউরি। ধারালো অস্ত্রের কোপে মৃত্যু হয় সুরজ বাউরির(১৬)। ভাই সুরজকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে প্রাণ যায় দাদা প্রতীক বাউরিরও(১৮)। দু’জনকে নৃশংসভাবে খুনের দায়ে বৃহস্পতিবার মন্টুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল রঘুনাথপুর আদালত। এদিন অতিরিক্ত ও জেলা দায়রা আদালতের বিচারক প্রিয়জিৎ চট্টোপাধ্যায় দোষীর সাজা ঘোষণা করেন। ঘটনার দু’বছরের মধ্যে দোষীর সাজা ঘোষণায় মহকুমা আদালত এক নজির সৃষ্টি করেছে। এদিন সাজা শোনার পর মন্টু আদালতে কেঁদে ফেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রঘুনাথপুর শহরের ১২ নম্বর ওয়ার্ডে মন্টুর বাড়ি থেকে কিছুটা দূরেই সুরজরা থাকত। সুরজের সঙ্গে মন্টুর স্ত্রী ভালোভাবে কথা বলতেন। তাতেই প্রতিবেশী কিশোরের উপর মন্টুর সন্দেহ দানা বাঁধে। তার জেরে ২০২৩ সালের ১০মে সন্ধ্যায় মন্টু ও সুরজ উভয়ে বিবাদে জড়িয়ে পড়ে। সেই সময় মন্টু ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুরজের উপর হামলা চালায়। তা দেখে সুরজকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন তাঁর বাবা বাপি বাউরি ও দাদা প্রতীক। তাঁদের উপরেও অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। একে অপরের হামলার জেরে মন্টুও গুরুতর জখম হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। জখম চারজনকে উদ্ধার করে রঘুনাথপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ঢোকার সময় চিকিৎসক সুরজকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসা চলাকালীন ওইদিন রাতেই প্রতীকের মৃত্যু হয়। অভিযুক্ত মন্টু ও বাপিবাবু কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর সুস্থ হয়ে ওঠেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত মন্টুকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেল হেফাজতে পাঠানো হয়। তারপর থেকে আর জেল থেকে ছাড়া পায়নি। ঘটনায় তৎকালীন সাব ইন্সপেক্টর মুকুল কর্মকার তদন্ত শুরু করেন। ওই বছরেই ১১ অক্টোবর দোষীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়। ১৩ ডিসেম্বর থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। মোট ২৫ জন সাক্ষ্য দেন।
রঘুনাথপুর মহকুমা আদালতের সরকারি আইনজীবী প্রবীর তেওয়ারি বলেন, ঘটনায় চার্জশিট জমা থেকে শুরু করে সাক্ষ্য গ্রহণের কাজ দ্রুততার সঙ্গে করা হয়। প্রতিটি সাক্ষ্য অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গিয়েছে। নৃশংসভাবে সুরজকে কোপানো হয়েছিল। অমানবিক ওই ঘটনায় রঘুনাথপুরের মানুষ হতবাক হয়ে গিয়েছিল। বুধবার অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। এদিন তার সাজা ঘোষণা হয়। বিচারক যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।



