


কিয়েভ: দুর্ঘটনার পর কেটে গিয়েছে ৪০ বছর। ইউক্রেনের চেরনোবিলের নিউক্লিয়ার প্লান্ট শুনশান। তেজষ্ক্রিয় বিকিরণ এখনও থামেনি। এরইমধ্যে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরেছে চেরনোবিল এক্সক্লুশন জোনে। নেকড়ে, শিয়াল থেকে শুরু করে বিপন্ন হয়ে পড়া সারস পাখি। কঠিন পরিস্থিতিতে নিজেদের মানিয়ে নিয়ে দিব্যি জীবনযাপন করছে তারা। ঠিক যেন এক আস্ত বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ কেন্দ্র।
১৯৮৬ সালের ২৬ এপ্রিল। বাকি দিনের মতোই দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত চেরনোবিলের বাসিন্দারা। আচমকা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের ৪ নম্বর রিঅ্যাক্টরে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে বিকিরণ। সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশে থাকা প্রায় দেড় লক্ষ মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়। পারমাণবিক কেন্দ্র সংলগ্ন ২ হাজার ৬০০ বর্গ কিমি জমি চিহ্নিত করা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেখানে মানুষ থাকবে না। মানুষের আনাগোনা বন্ধ হতেই চেরনোবিলে ফিরতে শুরু করে পশুপাখি। ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সির ২০০৬ সালের রিপোর্ট জানাচ্ছে, মানুষ না থাকার ফলেই এই জায়গা বন্যপ্রাণের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে। ইউরোপিয়ান বাইসন, কালো সারক, সাদা সারদ, হোয়াইট টেলড ইগল সহ বিভিন্ন বিপন্ন প্রাণী ফিরে এসেছে চেরনোবিলে। তথ্য জানাচ্ছে, এখানকার মতো এত দ্রুত গতিতে কোথাও বিপন্ন প্রাণীর বংশবৃদ্ধি হচ্ছে না। প্রিপিয়াতের প্লাবনভূমিতে নেকড়ে আর বুনো শুয়োরের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিকিরণের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণীগুলির শরীরে বর্ম গড়ে দিয়েছে বিবর্তন। যেমন ট্রি ফ্রগ। চেরনোবিলের এই ব্যাংয়ের রং সাধারণের থেকে একটু বেশি গাঢ়। শরীরে বাড়তি মেলানিন বিকিরণের থেকে সুরক্ষা জোগায়। তাই এই শারীরিক বিবর্তন। চার নম্বর রিঅ্যাক্টরের গায়ে এক বিশেষ ধরনের কালো ছত্রাকের সন্ধান মিলেছে। মেলানিনের সাহায্যে গামা বিকিরণকে দিব্যি শক্তিতে পরিণত করছে এই ছত্রাক প্রজাতি। এভাবেই বাস্তুতন্ত্রের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছে চেরনোবিল। ২০২৬ সালে দ্য কনভারসেশন ম্যাগাজিনের রিপোর্ট জানাচ্ছে, ‘মানুষ না থাকায় চেরনোবিল সংলগ্ন অঞ্চলে বন্যপ্রাণ ফিরে এসেছে।’