Bartaman Logo
১৪ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

জনস্রোতের আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই পদযাত্রায় প্রচার শেষ ঘরের মেয়ের

ঘড়ির কাঁটা দেড়টা গড়াতেই যাদবপুরের সুলেখা মোড়ে ইতিউতি ভিড় জমতে শুরু করেছিল। আশপাশের বিভিন্ন দোকান, ফ্ল্যাট থেকে জানলা-বারান্দায় ভিড় জমাচ্ছিলেন বাসিন্দারা।

জনস্রোতের আশীর্বাদ মাথায় নিয়েই পদযাত্রায় প্রচার শেষ ঘরের মেয়ের
  • ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৮:০৪
Prefer us on Google

স্বার্ণিক দাস ও অর্ক দে, কলকাতা: ঘড়ির কাঁটা দেড়টা গড়াতেই যাদবপুরের সুলেখা মোড়ে ইতিউতি ভিড় জমতে শুরু করেছিল। আশপাশের বিভিন্ন দোকান, ফ্ল্যাট থেকে জানলা-বারান্দায় ভিড় জমাচ্ছিলেন বাসিন্দারা। তারপর সময় যত এগিয়েছে সুলেখা মোড়ের দখল নিয়ে নেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা। শুধু সুলেখা মোড় নয় দুপুর থেকেই যাদবপুর, ঢাকুরিয়া, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট, হাজরায় রীতিমত উৎসবের মেজাজ। এবারের ভোটে ‘প্রিয় দিদি’র শেষ প্রচারের সাক্ষী থাকতে অজস্র মহিলা মুখের ভিড়। রোদ না থাকায় এদিন পথে নামেন প্রবীণরাও। ঘরের মেয়েকে দেখে কেউ জড়িয়ে ধরলেন। কেউ আবার আশীর্বাদস্বরূপ বললেন— ‘জয়ী হও।’

Advertisement

৩টে বেজে ৫০। সুলেখা মোড়ে হাজির হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন কার্যত উৎসবের আবহ। উৎসাহে ফেটে পড়ছে জনতা। সুলেখা মোড়ে মাইক হাতে মমতা বললেন, ‘এটা হয়রানির বিরুদ্ধে বদলা নেওয়ার লড়াই। যাদবপুর আমাকে জীবনে প্রথম রাজনৈতিক লড়াইয়ে জয়যুক্ত করেছিল। তাই সমস্ত নির্বাচনে আমি শেষপ্রচার এখানেই করি। এবারও এখানকার মাটিকে প্রণাম জানাতে এলাম।’ এরপর তৃণমূল নেত্রী পদযাত্রা শুরু করেন। সুলেখা মোড় থেকে যাদবপুর থানা, ঢাকুরিয়া, গোলপার্ক, গড়িয়াহাট-যত এগিয়েছে পথ, চারিদিকে শুধুই কালো মাথার ভিড় জমেছে। দিদিকে একবার দেখতে পাওয়ার আকাঙ্খা সবার মধ্যে। তেরঙা পতাকায় ছয়লাপ গোটা লাইন অব রুট। বাজছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধানসভা নির্বাচনের থিম সং। একসময় জনতার চাপে রাস্তা বন্ধ করে দেয় ট্রাফিক পুলিশ। বিভিন্ন দোকান, অফিসে কর্মরত মানুষ মমতাকে চোখের দেখা দেখতে ভিড় জমান রাস্তার ধারে। রাস্তার পর রাস্তা, আবাসনের পর আবাসন, ঠায় দাঁড়িয়ে থেকে মমতাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে জনতা। গোটা এলাকায় কার্যত জনপ্লাবন। 
যাদবপুর, রাসবিহারী, কসবা, বালিগঞ্জ এবং নিজের কেন্দ্র-ভবানীপুর ছুঁয়েছে মমতার পদযাত্রা। মিছিলে প্রথম থেকে তাঁর সঙ্গে ছিলেন অরূপ বিশ্বাস, দেবব্রত মজুমদার, দেবাশিস কুমার, জাভেদ খান প্রমুখ। এসেছিলেন তৃণমূলের সাংসদ সায়নী ঘোষ, সাগরিকা ঘোষ, সুস্মিতা দেব সহ অনেকে। বিকেলে সাড়ে চারটে নাগাদ গোলপার্কে এসে নামেন তৃণমূল সুপ্রিমো। সেখানে অপেক্ষারত তৃণমূল কর্মী, সমর্থক ও পথচলতি মানুষ। নেত্রী আসার পর সকলের উন্মাদনা বদলে যায় চিৎকারে। বেজে ওঠে থিম সং—‘আবার জিতবে বাংলা’। ভিড় থেকে অনেকে বলেন, ‘দেড়মাস ধরে টানা প্রচার করছেন। তাও ৭১ বছরের মহিলার চোখে মুখে কোনো ক্লান্তির ছাপ নেই। আক্ষরিক অর্থেই তিনি বাংলার অগ্নিকন্যা। পাশাপাশি আমাদের ঘরের মেয়েও।’ প্রচার যত এগিয়েছে আম জনতার মধ্যে উন্মাদনা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। গড়িয়াহাট মোড় পেরিয়ে ফ্লাইওভার শেষ হতেই হঠাৎ যাত্রাপথের পরিকল্পনা বদল। এবার শুরু হল স্কুটার-রাইড। তৃণমূল সুপ্রিমো চেপে পড়লেন স্কুটারে। চালক হলেন ভবানীপুরের ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অসীম বসু। প্রচারের মধ্যেও মাথায় হেলমেট পরতে ভোলেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে বাঁদিকে বাঁক নেয় তাঁর স্কুটার। পথে তখন অসংখ্য মানুষ। তাঁরা হাঁ করে দেখছেন দিদিকে। মমতা হাত না‌ড়঩লেন তাঁদের উদ্দেশে। মোবাইলে সেই দৃশ্য তুলে রাখলেন অনেকে। কেউ লাইভ ভিডিও কলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করলেন সেই ছবি। এরপর বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে বাঁদিকে বাঁক নেয় মমতার স্কুটার। ল্যান্সডাউন মোড়ে নেমে পড়েন নেত্রী। ফের শুরু হয় জনস্রোতে মিশে মমতা ট্রেডমার্ক প্রচার। ভবানীপুরে ঢুকতেই পাড়ার মেয়েকে আশীর্বাদে ভরিয়ে দেন সেখানকার বাসিন্দারা। সেখানে দলনেত্রীর পদযাত্রায় যোগ দেন ফিরহাদ হাকিম। হাজরা মোড় হয়ে কালীঘাট ব্রিজ পার করে আম্বেদকর কলোনিতে যায় পদযাত্রা। সেখানে বসবাসকারী দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে কথা বলেন মমতা। সবমিলিয়ে গোটা যাত্রাপথ মমতাময়। সবার বক্তব্য, প্রচারের আবেগই স্পষ্ট বলে দিচ্ছে, বাংলা নিজের মেয়েকেই চায়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ