সংবাদদাতা, রামপুরহাট: এক কিমির ব্যবধানে দু’-দু’টি লেভেল ক্রসিং রয়েছে। একটি আছে গ্রামের মাঝখানে, অপরটি বাইপাস রোডে। রামপুরহাট শহর লাগোয়া শ্রীকৃষ্ণপুর পাখুরিয়া গ্রামের মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই দু’টি লেভেল ক্রসিং। রোজ কমপক্ষে ৩০বার লেভেল ক্রসিং বন্ধ থাকে। ফলে বিভিন্ন যানবাহনের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্সের মতো জরুরি পরিষেবার গাড়িও আটকে পড়ে। সম্প্রতি ট্রেনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। স্থানীয়রা সমস্যা মেটাতে বিকল্প ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।
সাংসদ শতাব্দী রায় বলেন, গ্রামবাসীদেব বলব আমার অফিসে লিখিত আবেদনপত্র জমা দিন। তাহলে সংসদের আগামী অধিবেশনে বা রেলের মিটিংয়ে সেই অনুযায়ী প্রস্তাব দেব।
এই গ্রাম থেকে প্রায় দু’কিমি দূরে রয়েছে রামপুরহাট জংশন। স্টেশনের আপ লাইনের আউটার শ্রীকৃষ্ণপুর পাখুরিয়া। গ্রামের মাঝ দিয়ে বর্ধমান-সাহেবগঞ্জ লুপ লাইন গিয়েছে। লুপ লাইনের পূর্ব প্রান্তে শ্রীকৃষ্ণপুর পাখুরিয়া, পশ্চিমে জেঁদুর, হরিওকা, ডাঙাপাড়া, বনহাট সহ বিভিন্ন গ্রাম আছে। এসমস্ত গ্রামের পড়ুয়াদের লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে পাখুরিয়া জুনিয়র হাইস্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া, গ্রামবাসীদের রামপুরহাট থানা, মহকুমা শাসকের অফিস, বড়শাল পঞ্চায়েত সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়ে আসতেও রেলগেট পেরতে হয়। কৃষকরা রামপুরহাটের বাজারে ফসল নিয়ে আসেন। গ্রামাঞ্চলের অনেকে রামপুরহাট শহরে কেনাকাটা করেন। কিন্তু, ঘন ঘন যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল ও বেশিরভাগ সময় লেভেল ক্রসিংয়ে মালগাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় তাঁরা সবাই অসুবিধায় পড়েন। বিশেষত কেউ অসুস্থ হলে সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়। অ্যাম্বুলেন্স লেভেল ক্রসিংয়ে দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে। বাইপাস রোড ধরে যে গাড়ি যাবে, সেখানেও রয়েছে লেভেল ক্রসিং। সেই জন্য গ্রামবাসীরা বিকল্প ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন।
পঞ্চায়েত সমিতির স্থানীয় সদস্য সিপিএমের রেহেমান আলি বলেন, গ্রামের মাঝে থাকা রেলগেট দিনে সবমিলিয়ে ন’ঘণ্টা বন্ধ থাকে। একবার মালগাড়ি দাঁড়িয়ে পড়লে কমপক্ষে দেড়ঘণ্টা তা খোলে না। ফলে মানুষকে জরুরি কাজে বেরিয়ে রেলগেটে থমকে থাকতে হয়। এক কিমি ঘুরে বাইপাস রাস্তা ধরে যে মানুষ যাবে, সেই পথেও রেলগেট ও পাথরবোঝাই ভারী গাড়ির দৌরাত্ম্য রয়েছে।
তিনি জানান, রামপুরহাট যাওয়ার পথে রেললাইনের নীচে একটি ফুঁকো রয়েছে। অনেকেই রেললাইনের পাশ দিয়ে কিছুটা আলপথে হেঁটে সেই ফুঁকো দিয়ে যাতায়াত করেন। তবে বর্ষায় জলমগ্ন হয়ে পড়লে সেখান দিয়ে যাওয়া যায় না। সেই ফুঁকো ব্যবহার করে রেললাইন বরাবর ৫০০মিটার রাস্তা দিয়ে যাতে মানুষ সবসময় চলাচল করতে পারেন, সেই বিষয়ে পঞ্চায়েত সমিতি ও স্থানীয় বিধায়ককে জানিয়েছেন। কিন্তু, এখনও পর্যন্ত সুরাহা হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ততার কারণে অনেকসময় মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বন্ধ রেলগেট পেরচ্ছেন। এটা করতে গিয়ে প্রাণহানিও ঘটেছে। কিন্তু, সমস্যা মেটাতে প্রশাসনের তরফে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
রামপুরহাটের বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এর আগে রেলের কাছে ওই গ্রামের সমস্যা জানানো হয়েছিল। ডিআরএমের সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি বিষয়টি নিয়ে কথা বলব। প্রয়োজনে বীরভূমের বিধায়কদের টিম নিয়ে যাব। -নিজস্ব চিত্র