নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় প্রাইমারি শিক্ষক বদলিতে অনিয়ম হচ্ছে বলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ পৌঁছল। এই ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। শিক্ষকদের বদলিতে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ খামখেয়ালি আচরণ করছে বলে অভিযোগ। বদলি কার্যকর না করলেই শিক্ষকদের মাইনে আটকে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী, টিউমার অপারেশন হওয়া শিক্ষক লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে অন্য স্কুলে না যাওয়ায় তাঁর দু’মাসের মাইনে আটকে দেওয়া হয়েছে। শেষমেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার করে বাড়ি থেকে ৪০কিলোমিটার দূরে একটি স্কুলে বদলি করা হয়েছে। শিক্ষকদের বদলিতে কোনও নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠনও। এই ইস্যুতে সংগঠনের তরফে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শককেও ডেপুটেশন দেওয়া হয়।
জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, প্রত্যেকটি বদলির পিছনে যুক্তি আছে। ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক অনুপাত দেখে বদলি করা হচ্ছে। একই সার্কেলের মধ্যে অন্য স্কুলে লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে বদলির নির্দেশ না মানলে দূরের স্কুলে বদলি করা হচ্ছে।
দেশপ্রাণ ব্লকের অন্তর্গত বিচুনিয়া প্রাইমারি স্কুলে মোট ছাত্রছাত্রী সংখ্যা ৭৬। শিক্ষক সংখ্যা পাঁচ। ওই স্কুলের শিক্ষক তপন জানাকে স্থানীয় সারসা প্রাইমারি স্কুলে লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে বদলি করা হয়। সারসা প্রাইমারিতে মোট ছাত্রছাত্রী ৪০জন। সেখানে শিক্ষক দু’জন। এরমধ্যেই ওই শিক্ষকের কাঁধে টিউমার অপারেশন হয়। নির্দেশ মতো তপনবাবু সারসায় জয়েন না করায় তাঁর দু’মাসের মাইনে বন্ধ করা হয়। তারপর সারসা স্কুলে জয়েন করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেই তাঁকে জানানো হয়, অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অর্ডার করে তাঁকে অন্যত্র বদলি করা হবে। এরপর তাঁকে দীঘা সার্কেলের অধীন কাশীপুর এসজি প্রাইমারিতে বদলি করা হয়েছে। এনিয়ে তপনবাবু বলেন, স্কুলে সিনিয়ারিটির ভিত্তিতে আমি তৃতীয়। শিক্ষক সংখ্যা উদ্বৃত্ত থাকলে আমার পরে জয়েন করা শিক্ষকদেরও বদলি করা যেত। কিন্তু, তা না করে আমাকেই লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে অন্যত্র পাঠানো হয়।
কন্টাই হিন্দু গার্লস প্রাইমারির মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ২১০। এখানে শিক্ষক সংখ্যা ১০। ওই স্কুলের শিক্ষক অমৃতময় সিংহকে শেরপুর গিরিপাড়া প্রাইমারিতে বদলি করা হয়। সেখানে জয়েন না করায় ১৮মার্চ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ট্রান্সফার করে অন্য সার্কেলের অধীন নামালডিহার মুণ্ডপাড়া শীতলা প্রাইমারিতে বদলি করা হয়েছে।
তবে, সবাই শাস্তির কোপে পড়ছে এমনটা নয়, বদলিতে অনেকে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছেন বলেও অভিযোগ জমা পড়েছে। যেমন, পিছাবনী চক্রের জাগরণ নিম্ন বুনিয়াদি প্রাইমারির শিক্ষিকা সায়নী মান্নাকে কাঁথির জাতীয় বিদ্যালয় ফর গার্লসে(ইংলিশ মিডিয়াম) লোকাল অ্যারেঞ্জমেন্টে আনা হয়। চার মাস বাদে একদিনের জন্য ফের জাগরণ স্কুলে জয়েন করেন। পরদিন তাঁকে কাঁথি শহরে কিশোরনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। অথচ, সেই কিশোরনগর প্রাথমিক থেকে আবার শিক্ষিকা সুদীপ্তা গিরিকে জাতীয় বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়। যদিও শেষমেশ সুদীপ্তাদেবীর বদলি স্থগিত করা হয়।
এভাবে কাঁথি শহর ও গ্রামীণ এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষকদের হুটহাট করে বদলি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। নির্দেশ মতো না গেলেই মাইনে আটকে যাচ্ছে। এই ঘটনার তদন্তের দাবিতে গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তার কপি দেওয়া হয়েছে জেলাশাসককেও।
তৃণমূল প্রাইমারি শিক্ষক সংগঠনের কাঁথি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি দীপক মণ্ডল বলেন, শিক্ষকদের বদলিতে অনেক সময় কঠোর হচ্ছে সংসদ। সংগঠনের সঙ্গে আলোচনাও হচ্ছে না। আমাদের অন্ধকারে রেখে এই বদলি হচ্ছে। অনেকক্ষেত্রে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের একটা অংশ ক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছেন।