সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: কিডনির রোগ ভয়ানক আকার নিয়েছে। দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হতে চলেছে। এদিকে বিধানসভা ভোটের পর থেকে থাকতে হচ্ছে আত্মগোপন করে। বাড়িতে রয়েছে দুই নাবালক ছেলে। রোগাক্রান্ত তৃণমূল নেতা সমীর সামন্ত কাতর আবেদন করেছেন সোশ্যাল মিডিয়ায়, ‘আমি বেশিদিন বাঁচব না। হাতজোড় করে প্রাণভিক্ষা চাইছি। আমাকে আমার দুই নাবালক ছেলের সঙ্গে থাকতে দিন।’ তৃণমূল নেতার আবেদনের প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি দেবাশীষ সামন্ত বলেছেন, ‘আমরা কাউকে তাড়াইনি। জানি না উনি কোথায় আছেন। তবে যদি উনি কিছু অন্যায় করে থাকেন, কিছু আইনি বিষয় থাকে তবে আইন আইনের পথে চলবে। উনি ওঁর বাড়িতে থাকবেন না অন্য কোথাও থাকবেন, সেটা ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো বিষয় নয়।’
সমীরবাবুর কিডনির ৭০ শতাংশ বিকল হয়ে পড়েছে। খুব শীঘ্র ডায়ালিসিস শুরু করতে হবে। বুধবার গোপন আস্তানা থেকে সমাজমাধ্যমে হাওড়া গ্রামীণ জেলার একাধিক বিজেপি নেতাকে উদ্দেশ্য করে আবেদন জানান সোশ্যাল মিডিয়ায়, ‘যে কয়েকটি দিন বাঁচব সেই কয়েকটি দিন আমার দুই নাবালক ছেলের সঙ্গে থাকতে চাই।’
বাগনান ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধক্ষ্য সমীর সামন্ত ভোটের পর থেকে আত্মগোপন করে আছেন। বুধবার তাঁর কাতর আবেদন কার্যত চাঞ্চল্য ফেলে দিয়েছে জেলায়। সমীর জানিয়েছেন, ‘যে রাজনৈতিক দল করতাম সেই দলের কয়েকজন কর্মী অশান্তি করেছে। তার চাপ আমাদের উপর পড়েছে। আমি বলছি ওদের শাস্তি দিন। কিন্তু আমাকে ভুল বুঝবেন না। আমি আমার প্রাণভিক্ষা চাইছি।’ এর পাশাপাশি সমাজমাধ্যমে দলের নেতা-নেত্রীদের উপরও ক্ষোভ উগড়ে দেন তিনি। অভিমানী ভাষায় লিখেছেন, ‘আমার শরীরের এই অবস্থা হলেও কেউ একবারের জন খোঁজ নেয়নি।’ এছাড়া বলেছেন, ‘২০১৮ সাল থেকে আমাকে দলে কোণঠাসা করা হচ্ছে। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে আমাকে হারানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। আমি আর রাজনীতিতে থাকতে চাইনি।’ সমীর সামন্ত। -নিজস্ব চিত্র