Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

১১ বছরে বাংলাদেশ সীমান্তে গ্রেফতার ১৯ হাজারের কম! কোটি কোটি রোহিঙ্গার তত্ত্ব খারিজ সরকারি রিপোর্টে

১১ বছরে মোট কত অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়েছে? ২৩ হাজার ৯২৬।  পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার মিলিয়ে এই সংখ্যা।

১১ বছরে বাংলাদেশ সীমান্তে গ্রেফতার ১৯ হাজারের কম! কোটি কোটি রোহিঙ্গার তত্ত্ব খারিজ সরকারি রিপোর্টে
  • ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: ১১ বছরে মোট কত অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়েছে? ২৩ হাজার ৯২৬।  পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, নেপাল, মায়ানমার মিলিয়ে এই সংখ্যা। এর মধ্যে সবথেকে বেশি গ্রেফতার হয়েছে বাংলাদেশ সীমান্তে। সংখ্যা কত? ১৮ হাজার ৮৫১। অর্থাৎ, ১১ বছরে ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে বছরে গড়ে অনুপ্রবেশকারী গ্রেপ্তার হয়েছে ১ হাজার ৭১৩ জন। কোটি কোটি রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারী তাহলে কোথায়? ইস্যুর নাম অনুপ্রবেশকারী। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের ভাষায় ঘুসপেটিয়া। ঝাড়খণ্ডে শুরু। বিহার হয়ে বাংলায় শেষ। একটি করে পূর্ব ভারতের রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসছে। আর বিজেপির প্রচারে সবথেকে উচ্চকিত স্থান করে নিচ্ছে অনুপ্রবেশকারী। ঝাড়খণ্ডে নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার পর আর ওই ইস্যু নিয়ে উচ্চবাচ্য হয় না। বিহারে নির্বাচন সমাপ্ত হওয়ার পরও সব চুপচাপ। এবার পশ্চিমবঙ্গে জোরদার প্রচার চলছে অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা নাকি দেড়-দু’কোটি। রোহিঙ্গাও কোটি কোটি। মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়েছে এসআইআরের খসড়া তালিকা। সেখানেও কোটি কোটি রোহিঙ্গা নেই। আবার এই একই দিনে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের দুই এমপি জগদীশচন্দ্র বর্মা এবং শর্মিলা সরকারের অনুপ্রবেশ সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মোদি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পেশ করা রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ থেকে ভারতে যে অনুপ্রবেশকারীর চেষ্টা ধরা পড়েছে সেই সংখ্যা নগণ্য। ২০১৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮৫৫। ২০২৪ সালে ৯৭৭। আর ২০২৫ সালের নভেম্বর মাস পর্যন্ত ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী যে সংখ্যক অনুপ্রবেশ ধরে ফেলেছে, সেই সংখ্যা ১ হাজার ১০৪। এই রিপোর্টের সবথেকে উল্লেখযোগ্য তথ্য হল, অনুপ্রবেশ নিয়ে যতই মোদি সরকার কঠোর মনোভাব নিয়ে কড়া ব্যবস্থার দাবি করছে, ততই বাড়ছে অনুপ্রবেশের চেষ্টা। ২০২৫ সালে সবথেকে তীব্র হয়েছে প্রচার। আর এই সা঩লেই ১ হাজার ১০৪ অনুপ্রবেশ চেষ্টা হয়ে গিয়েছে। নভেম্বর পর্যন্ত গ্রেফতার হয়েছে দু’ হাজার ৩৪ জন। মনে রাখতে হবে, এই সংখ্যাটি ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য প্রযোজ্য। অর্থাৎ মোট যত সীমান্ত আছে, সব সীমান্তের যোগফল। অর্থাৎ, বাংলা, অসম, মেঘালয়, ত্রিপুরা সব রাজ্য মিলিয়ে এই সংখ্যা। এদিকে এদিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের রাষ্ট্রমন্ত্রী নিত্যানন্দ রা‌ই এই প্রশ্নের উত্তরে জানিয়েছেন, বাংংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। কিন্তু এখনও ৭৯ শতাংশ ফেন্সিং সম্ভব হয়েছে। ৮৫৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ফেন্সিংহীন এখনও। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ