Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিষ্ণুপুর মহকুমার কলেজে সিকিভাগ আবেদন, উদ্বেগ

আজ, মঙ্গলবার ডিগ্রি কলেজে ভর্তির আবেদনের শেষ দিন। কিন্তু, সোমবার পর্যন্ত বিষ্ণুপুর মহকুমার সবকটি কলেজে আবেদনের হার দেখে চিন্তায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিষ্ণুপুর মহকুমার কলেজে সিকিভাগ আবেদন, উদ্বেগ
  • ১৫ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আজ, মঙ্গলবার ডিগ্রি কলেজে ভর্তির আবেদনের শেষ দিন। কিন্তু, সোমবার পর্যন্ত বিষ্ণুপুর মহকুমার সবকটি কলেজে আবেদনের হার দেখে চিন্তায় পড়েছে কর্তৃপক্ষ। অধিকাংশ কলেজে সিকিভাগ আসনেও প্রথম পছন্দ হিসেবে ভর্তির আবেদন জমা পড়েনি বলে বিভিন্ন কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে। মহকুমার সাতটি কলেজে মোট ৭৮৫১টি আসন রয়েছে। এদিন পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রথম পছন্দের কলেজ হিসেবে ভর্তির আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ১৯৫২টি। যা মোট আসনের সিকিভাগেরও কম। গ্রামীণ কলেজগুলি ছাড়াও বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী শহরের কলেজেও আবেদনের হাল খুবই খারাপ। এই অবস্থায় কীভাবে কলেজগুলি চলবে। তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে অধ্যাপক মহলে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য রাজ্য সরকারকে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করছেন। ইদানীং ইঞ্জিনিয়ারিং ও নার্সিং পড়ার ঝোঁক বেড়েছে। তাই কলেজে সাধারণ বিভাগে পড়ার আগ্রহ কমছে বলে অধ্যাপকদের অনেকেই মনে করছেন।  

Advertisement

বিভিন্ন কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষ্ণুপুরের রামানন্দ কলেজে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোট আসন রয়েছে ২৩৯৫টি। সোমবার পর্যন্ত সেন্ট্রাল অনলাইন পোর্টালে প্রথম বর্ষে প্রথম পছন্দের কলেজ হিসেবে ভর্তির আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৮৫৩টি। সোনামুখী কলেজে মোট আসন সংখ্যা ১৭০০। আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ৪৬০টি। পাত্রসায়র কলেজের আসন সংখ্যা ৯৮৫। আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ১৩৫টি। ইন্দাস কলেজে আসন সংখ্যা ১০৯০। আবেদন জমা পড়েছে ২৬২টি। আকুই কমলাবালা ওমেনস কলেজে আসন রয়েছে ১৮০, আবেদন জমা পড়েছে মাত্র ২৫টি। এছাড়াও চাতরা রামাইপণ্ডিত কলেজে আসন রয়েছে ৭০০টি। সেখানে মাত্র ১৪৩টি আবেদন জমা পড়েছে। ভড়া স্বামী ধনঞ্জয় দাস কাঠিয়াবাবা কলেজে মোট আসন রয়েছে ৮০১টি, প্রথম পছন্দ হিসেবে ভর্তির আবেদন জমা করেছেন মাত্র ৭৪জন।  
রামানন্দ কলেজের অধ্যক্ষা স্বপ্না ঘোড়ই বলেন, গত বছর আমাদের কলেজে দেড় হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছিল। কিন্তু, এবার এখন পর্যন্ত অর্ধেক ছাত্রছাত্রী প্রথম পছন্দ হিসেবে আবেদন করেছে। এর কারণ আমরা বুঝতে পারছি না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। 
সোনামুখী কলেজের অধ্যক্ষ বাপ্পাদিত্য মণ্ডল বলেন, এখনও পর্যন্ত আসন সংখ্যার সিকি ভাগ ছাত্রছাত্রী প্রথম পছন্দ হিসেবে অনলাইনে আবেদন করেছে। এবারে উচ্চমাধ্যমিকে পাশের হার অন্যান্য বারের তুলনায় কম ছিল। সেই হিসেবে আবেদনের হার কম হয়েছে বলে আমার মনে হয়েছে। 
চাতরা রামাই পণ্ডিত কলেজের অধ্যক্ষ তারকনাথ রায় বলেন, এখন ব্লকে ব্লকে ডিগ্নি কলেজ গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন বিষয়ে আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ভাষা বিভাগে পড়ার আগ্রহ আগের চেয়ে অনেকটাই কমেছে। ২০১৯সালের পর থেকে কলেজে ভর্তি ফিও বাড়ানো হয়নি। বরং কোভিডের সময় আরও কমানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও বিভিন্ন কারণে ডিগ্রি কলেজে ভর্তির হার কমছে। 
পাত্রসায়র কলেজের অধ্যক্ষ সন্তোষ কোনার বলেন, গত বছর ৪৭০জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছিল। এবার এখনও পর্যন্ত প্রথম পছন্দ হিসেবে মাত্র ১৩৫জন আবেদন করেছে। ইন্দাস কলেজের অধ্যক্ষ রাজীব বাগ বলেন, প্রথম পছন্দের তালিকায় ২৬২জন আমাদের কলেজকে রাখলেও পরের দিকে অনেকেই ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
ভড়া কলেজের অধ্যক্ষা কাকলি ঘোষ সেনগুপ্ত এবং আকুই কমলাবালা ওমেনস কলেজের অধ্যক্ষ পিতাম্বর পাল দ্বিতীয় এবং তৃতীয় পছন্দের তালিকা থেকেও পড়ুয়া ভর্তির ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেছেন। তবে আবেদনের হার কমার পিছনে তাঁদের প্রত্যেকেই সাধারণ বিভাগ থেকে মুখ ঘুরিয়ে আইটিআই, পলিটেকনিক অথবা নার্সিংয়ে ঝুঁকছেন বলে মনে করছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ