Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লেপ্টোস্পাইরা: নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ৮, সংক্রমণ রুখতে ঝাঁপাল প্রশাসন

ইঁদুরবাহিত লেপ্টোস্পাইরা। সঙ্গে জলবাহিত হেপাটাইটিস এ। রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতে ছড়িয়ে পড়া এই দুই রোগ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই মঙ্গলবার নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হল আটজনকে।

লেপ্টোস্পাইরা: নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি ৮, সংক্রমণ রুখতে ঝাঁপাল প্রশাসন
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ: ইঁদুরবাহিত লেপ্টোস্পাইরা। সঙ্গে জলবাহিত হেপাটাইটিস এ। রাজগঞ্জের সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতে ছড়িয়ে পড়া এই দুই রোগ নিয়ে উদ্বেগের মাঝেই মঙ্গলবার নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি করা হল আটজনকে।

Advertisement

রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতাল সূত্রে খবর, লেপ্টোস্পাইরা ও হেপাটাইটিস এ এবং হেপাটাইটিস ই রোগে আক্রান্ত হয়ে সেখানে বর্তমানে ১৬ জন চিকিৎসাধীন। এদিন ভর্তি করা হয় আটজনকে। তবে তাঁরা ঠিক কোন রোগে আক্রান্ত এনিয়ে মুখ খুলতে চাননি জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রিনিং করা হচ্ছে। সোমবার ৬৩ জনের স্ক্রিনিং করা হয়। মঙ্গলবারও প্রায় শ’খানেক মানুষের স্ক্রিনিং করা হয়েছে। রিপোর্ট এলে কারা কোন রোগে আক্রান্ত তা বোঝা যাবে বলে স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে।
চেকরমারি গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি, রাজগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালের পাশাপাশি শিলিগুড়িতে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেও আক্রান্তদের অনেকে ভর্তি। অনেকে বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করাচ্ছেন। চেকরমারি, পেলকুগছ, গিরানগছ সহ আশপাশের সাতটি গ্রামে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এদিনও বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের গাড়ি এসে তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ১৫ জনের চিকিৎসা চলছে। 
জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, স্বাস্থ্যদপ্তর, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আধিকারিক সহ জেলা প্রশাসনের তরফে টিম তৈরি করা হয়েছে। তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। যতদূর মনে হচ্ছে, জল থেকেই রোগ ছড়িয়েছে। সেকারণে পিএইচই’র পক্ষ থেকে এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়েছে। ওই জল বাসিন্দাদের খেতে বলা হয়েছে। আক্রান্ত এলাকায় মেডিক্যাল ক্যাম্প রয়েছে। সেখান থেকে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রিনিং করছেন। উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।
জেলাশাসক বলেন, আক্রান্ত এলাকায় একটি পোল্ট্রি ফার্ম নিয়েও আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। স্বাস্থ্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তর সে ব্যাপারে দেখছে। পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকেও খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। রিপোর্ট দেখে আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব।
আক্রান্ত এলাকায় এদিন সন্ন্যাসীকাটা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে ব্লিচিং ছড়ানোর পাশাপাশি স্প্রে করা হয়। পঞ্চায়েত প্রধান রুবা খানমের স্বামী রৌশন হাবিব বলেন, আক্রান্ত গ্রামের পাশাপাশি পোল্ট্রিফার্ম সংলগ্ন এলাকায় ব্লিচিং ছড়ানো হয়েছে। ফগিং করা হচ্ছে। স্প্রে হয়েছে।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাহুল রায় বলেন, আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে এদিন খোঁজখবর নিয়েছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্ক্রিনিং করছেন। উপসর্গ থাকলে ওষুধপত্র দেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ