নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এবার খোদ জলপাইগুড়ি শহরে চিতাবাঘের আতঙ্ক! এলাকার এক ব্যক্তির দাবি ঘিরে পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কংগ্রেসপাড়া এলাকায় ওই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শুভঙ্কর বণিকের দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে তিনি নিজের চোখে বাড়ির সামনের পাঁচিল টপকে চিতাবাঘকে চলে যেতে দেখেছেন। শুক্রবার সকালে এ খবর চাউর হতেই এলাকায় আতঙ্ক ছড়ায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে চলে আসেন বনকর্মীরা। তাঁদের দাবি, যে ব্যক্তি চিতাবাঘ দেখেছেন বলে দাবি করছেন, প্রাণীটি জঙ্গল ক্যাট হতে পারে। আবার চিতাবাঘও হতে পারে। এলাকায় কোথাও চিতাবাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া যায় কি না, তার খোঁজ শুরু করেছেন বনকর্মীরা। পাশাপাশি ওই এলাকায় ঝোপঝাড় ও পরিত্যক্ত বাড়িতে ‘সার্চ অপারেশন’ চালানো হচ্ছে।
ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তিয়াস সিনহা গোস্বামী বলেন, পশ্চিম কংগ্রেসপাড়া এলাকায় কোনওভাবেই চিতাবাঘ ঢোকার কথা নয়। চারদিকে ঘন জনবসতি। তবুও ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা যখন দাবি করছেন,তিনি নিজের চোখে চিতাবাঘকে পাঁচিল টপকে পালাতে দেখেছেন, বিষয়টি হেলায় উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বনদপ্তরের লোকজন এসেছিলেন। তাঁরা খতিয়ে দেখছেন।
তবে বাসিন্দারা জানিয়েছেন, জলপাইগুড়ি শহরে অতীতে চিতাবাঘ ঢোকার নজির রয়েছে। পশ্চিম কংগ্রেসপাড়ার বাসিন্দা শুভঙ্কর বণিক ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীর ব্যবসা করেন। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার রাত বারোটা নাগাদ আচমকা লক্ষ্য করেন, সামনে দিয়ে কিছু একটা লাফিয়ে চলে গেল। বিষয়টি দেখার জন্য দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসেন তিনি। সেসময় স্পষ্ট দেখতে পান, পাশের উঁচু পাঁচিল টপকে পালাচ্ছে একটি চিতাবাঘ। তাঁর দাবি, কাজের সূত্রে জঙ্গল এলাকা দিয়ে আমি নিয়মিত যাতায়াত করি। এর আগে একাধিকবার চিতাবাঘ দেখেছি। ফলে আমার বাড়ির সামনে দিয়ে পাঁচিল টপকে পালানো জন্তুটি যে চিতাবাঘই ছিল, সেব্যাপারে আমি নিশ্চিত।
ঘটনার পরই জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান তিনি। এদিন সকালে এক বনাধিকারিককে ফোন করে গোটা বিষয়টি জানান তিনি। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বনকর্মীরা।
গোরুমারা বন্যপ্রাণ বিভাগের বিট অফিসার সুরজিৎ সেনগুপ্ত বলেন, এলাকার এক ব্যক্তি রাতের অন্ধকারে চিতাবাঘ দেখেছেন বলে দাবি করছেন। আশপাশে কোথাও চিতাবাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া যায় কি না, তার খোঁজ চলছে। হতে পারে সেটি জঙ্গল ক্যাট। আবার চিতাবাঘও হতে পারে। প্রয়োজনে আমরা এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখব।
শুভঙ্কর বণিক বলেন, বনদপ্তরের লোকজন এসেছিলেন। আমাদের বাড়ির কাছে ঝোপঝাড় রয়েছে। একটি পরিত্যক্ত বাড়িও রয়েছে। বনকর্মীরা ওই জায়গাগুলি দেখেছেন। আমাদের সাবধানে থাকতে বলেছেন। নিজস্ব চিত্র