সংবাদদাতা, বাগডোগরা: ফের চিতাবাঘের আতঙ্ক উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও পার্শ্ববর্তী এলাকায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবেকানন্দ হস্টেলের বাইরে দেখা গিয়েছে রক্তের দাগ। এদিকে, রাতে দোকানে গিয়ে ফেরার পথে চিতাবাঘের আতঙ্কে আটকে পড়েন হস্টেলের একদল পড়ুয়ারা। এনবিইউয়ের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন শান্তিপুর এলাকায় রাস্তা থেকে লাফ দিয়ে পাঁচিল টপকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি। শুক্রবার এমনই দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
রাতে বিবেকানন্দ হস্টেলের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে চিতাবাঘটি, এমনই একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেই ছবিটি ভুয়ো বলেই দাবি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। মঙ্গলবারের হাড়হিম করা ঘটনার পর ফের এসব দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত এলাকাবাসী থেকে আবাসিক পড়ুয়ারা। আপাতত ক্যাম্পাস বন্ধ রাখার আবেদন করছেন আতঙ্কিত পড়ুয়ারা।
বৃহস্পতিবার রাতে ফের বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শান্তিপুরে ওই চিতাবাঘটি দেখা গিয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে প্রতি মিনিটের খবর আদানপ্রদান করছেন গ্রামবাসীরা। এলাকারই বাসিন্দা গোবিন্দকুমার বারুই বলেন, রাতে আলো-আঁধারিতে রাস্তায় দাঁড়িয়েছিল প্রাণীটি। একটি গাড়ি আসায় সেটির হেডলাইট দেখে লাফ দিয়ে এনবিইউয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। শিশুদের নিয়ে ভীষণ আতঙ্কে আমরা।
অপরদিকে, বিবেকানন্দ হস্টেলের বাইরে দুই জায়গায় রক্তের দাগ দেখা গিয়েছে। রাতে কয়েকটি কুকুর খুব চিৎকার করছিল বলে জানান আবাসিকরা। খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বনবিভাগের বাগডোগরা রেঞ্জের কর্মীরা। তবে পরবর্তীতে আর দেখা পাওয়া যায়নি প্রাণীটিকে। ফলে বর্তমানে আতঙ্কিত হস্টেলের পড়ুয়ারা।
এদিকে, আতঙ্কের জেরে সন্ধ্যার পর খুব প্রয়োজন না হলে বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না কেউ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ছাত্র বিবেকানন্দ হস্টেলের আবাসিক রিপন সরকার বলেন, আমরা খুব আতঙ্কে রয়েছি। সন্ধ্যা হলেই হস্টেলের গেটে তালা দিয়ে দিচ্ছি। বৃহস্পতিবার রাতে আমি এবং আমার সহপাঠীরা দোকানে যাই। সেখান থেকে হস্টেলে ফেরার পথে স্থানীয়দের কাছে শুনতে পাই চিতাবাঘটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতর ঢুকেছে। আমরা হস্টেলের বন্ধুদের ফোন করি। তাঁরা এলে পরে একসঙ্গে হস্টেলে ফিরি। বাণিজ্য বিভাগের আবাসিক ছাত্র সুজয় মুর্মু বলেন, আপাতত ক্যাম্পাস বন্ধ রাখা উচিত। আমরা ভীষণ আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। হস্টেলের বাইরে রক্তের ছাপ দেখা গিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাস বলেন, নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। বনকর্মীরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। পড়ুয়াদের সুরক্ষা নিয়ে উপরমহলে জানানো হয়েছে। সেখান থেকে জবাব পেলে ক্যাম্পাস ছুটি দেওয়া সম্ভব।
এ বিষয়ে বনদপ্তরের বাগডোগরার রেঞ্জার সোনম ভুটিয়া জানান, খবর পেয়ে টিম নিয়মিত তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। খাঁচা আপাতত সরানো হবে না।