Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে জু্লজিক্যাল পার্ক থেকে উধাও চিতাবাঘের ছানা

ঝাড়গ্রামের অন্যতম পর্যটনস্থল জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক। শীতের মরশুমে সেখানে পর্যটকের ঢল

ঝাড়গ্রামে জু্লজিক্যাল পার্ক থেকে উধাও চিতাবাঘের ছানা
  • ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের অন্যতম পর্যটনস্থল জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক। শীতের মরশুমে সেখানে পর্যটকের ঢল। চিতাবাঘ পলাশ, হর্ষিনী ও তাদের শাবকদের খুনসুটি উপভোগ করছিলেন পর্যটকরা। হঠাৎ করেই একটি শাবক উধাও। এ নিয়ে বনবিভাগের মুখে কুলুপ। শহরের পশুপ্রেমীরা উদ্বিগ্ন। শাবকটির মৃত্যু হয়েছে বলে জল্পনা বাড়ছে শহরে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমাম হঠাৎ করে ছুটিতে চলে গিয়েছেন। মেদিনীপুর বনবিভাগের ডিএফও দীপক এম বলেন, রবিবার আমি দায়িত্ব নিয়েছে। শাবকের মৃত্যুর বিষয়ে জানি না। খোঁজ নিয়ে দেখছি। 

Advertisement


দুর্গাপুজোর আগে জুলজিক্যাল পার্কে চিতাবাঘ হর্ষিনী একটি শাবকের জন্ম দিয়েছিল। পার্কে খুশি উপচে পড়েছিল। উত্তরবঙ্গ থেকে চিতাবাঘিনী হর্ষিনী ও চিতাবাঘ সোহেলকে জুলজিক্যাল পার্কে আনা হয়েছিল। হর্ষিনী ২০২০ সালে প্রথমবার দু'টি সন্তান প্রসব করে। জন্মানোর পর পরেই ওই দুই শাবকের মৃত্যু হয়। কয়েকমাস বাদে হর্ষিনী ফের দু’টি সন্তান প্রসব করে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে আরও তিনটি সন্তান প্রসব করে। জুলজিক্যাল পার্কে চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়ে হয় সাত। এরপরেই সোহেল ও তার দুই পুরুষ সন্তান সহ তিনটি পুরুষ চিতাবাঘকে উত্তরবঙ্গে পাঠানো হয়। পার্কে থেকে যায় হর্ষিনী ও তার তিন শাবক। এই বছরের মার্চ মাসে উত্তরবঙ্গের জলদাপাড়া অভয়ারণ্য উদ্ধার কেন্দ্র থেকে চিতাবাঘ পলাশকে নিয়ে আসা হয়। হর্ষিনী পুজোর আগে একটি পুরুষ শাবকের জন্ম দেয়। পার্কে চিতাবাঘের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় পাঁচে। দুর্গাপুজোর কিছুদিন পরেই শাবকটিকে এনক্লোজারে রাখা হয়। এনক্লোজারে শাবকদের জন্য কাঠের দোলনা ও মাচা তৈরি করা হয়েছিল। শাবকদের খুনসুটি দেখতে পর্যটকদের ভিড় বাড়ছিল। হঠাৎই এই ছন্দপতন। দুই সপ্তাহ ধরে একটি শাবকের দেখা মিলছে না। পর্যটকরা চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে শাবকটির খোঁজাখবর করা শুরু করেন। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে মুখ না খোলায় শাবকের মৃত্যু ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে। শাবকের মৃত্যু ঘিরে শহরজুড়ে নানা গুজব ছড়িয়েছে। বিভিন্ন সূত্রের খবর, এক সপ্তাহ আগেই শাবকটির মৃত্যু হয়েছে। পোস্ট মর্টেম করা হয়েছে। রাজ্য বন বিভাগ ইতিমধ্যেই ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের কাছে চিতা শাবকের মৃত্যুর কারণ জানতে নোটিশ পাঠিয়েছে। সোমবার জুলজিক্যাল পার্কের অফিস ঘর ছিল নিঃস্তব্ধ। আধিকারিকরা কোনও উত্তর দিতে চাননি। পার্কে অন্যান্য দিনের তুলনায় প্রবেশ নিয়েও এদিন বাড়তি কড়াকড়ি দেখা যায়। ঝাড়গ্রাম বনবিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, সন্তান জন্ম দেওয়ার তিন মাস থেকে এক বছরের মাথায় চিতাবাঘিনী শাবকদের নানা কারণে মেরে ফেলতে পারে। বাঘিনী যদি মনে করে শাবকটির বেঁচে থাকার স্বাভাবিক শক্তি কম বা বিকলাঙ্গ। দুধ খাওয়ানোর শক্তি কমে গেলে শাবক দুধ খেতে এলে মেরে ফেলে। আবার প্রচণ্ড খিদে পেলেও শাবকদের মেরে খেয়ে ফেলে। এই সময়ে চূড়ান্ত সতর্কতা অবলম্বন জরুরি। না হলে শাবকের মৃত্যুর সম্ভবনা বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে  চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষই ঘটনার আসল কারণটি বলতে পারবে। জেলার বন ও পশুপাখি সুরক্ষা আন্দোলনের কর্মী শ্যামসুন্দর মাহাত বলেন, শাবক চিতাবাঘের মৃত্যু নিয়ে নানা ধরনের খবর ছড়াচ্ছে। জঙ্গলমহলে জুলজিক্যাল পার্ক আমাদের গর্ব। স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগে রয়েছি।  নিখোঁজ হওয়া চিতা শাবক।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ